• আন্তর্জাতিক
  • জাপানে শুরু হলো জাতীয় নির্বাচনের মহারণ: ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ‘অগ্নিপরীক্ষায়’ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি

জাপানে শুরু হলো জাতীয় নির্বাচনের মহারণ: ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ‘অগ্নিপরীক্ষায়’ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
জাপানে শুরু হলো জাতীয় নির্বাচনের মহারণ: ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ‘অগ্নিপরীক্ষায়’ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি

সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনের লড়াইয়ে ১২৮৪ জন প্রার্থী; কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত এলডিপিকে ক্ষমতায় ফেরাতে তাকাইচির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এই আগাম নির্বাচন।

জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রবেশ করল সূর্যোদয়ের দেশ। স্থানীয় সময় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষের (Lower House) নিয়ন্ত্রণভার কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণ করবেন জাপানি ভোটাররা। জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় সানাই তাকাইচির জন্য এই নির্বাচন এক বিশাল ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাকাইচির আগাম নির্বাচনের রাজনৈতিক কৌশল

গত ২৩ জানুয়ারি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে জাপানের সংসদ ভেঙে দেন প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি। সেই সময়ই তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের (Snap Election) ডাক দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের আকাশচুম্বী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (LDP) নড়বড়ে অবস্থানকে সুসংহত করাই তার মূল লক্ষ্য। চার মাস আগে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তিনি জাপানি জনসমাজে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব বা ‘Strong Leadership’-এর ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্যক্তি বনাম দল: একটি কঠিন সমীকরণ

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের বিপরীতে লড়াই করছেন ১ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তুঙ্গে থাকলেও তার দল এলডিপি গত কয়েক বছরে বেশ কিছু আর্থিক ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে (Scandal) জড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্নামের কারণে দলের ওপর জনগণের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ফলে ভোটাররা তাকাইচিকে পছন্দ করলেও তার দলকে ভোট দেবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। তবে তাকাইচি আশা করছেন, তার সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলো ভোটারদের মন জয় করবে।

জরিপের আভাস ও জোটের সমীকরণ

সবশেষ প্রকাশিত জনমত জরিপ বা ‘Opinion Poll’-এ ক্ষমতাসীন জোটের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) এবং জনতাবাদী ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’র জোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Majority) অর্জন করতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তবে গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলডিপির জন্য এটি হবে এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন বা ‘Political Comeback’।

অর্থনৈতিক নীতি ও সমালোচকদের শঙ্কা

নির্বাচনী প্রচারণায় রক্ষণশীল নেত্রী সানাই তাকাইচি সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিপুল পরিমাণ করছাড় (Tax Cut) এবং সরকারি ভর্তুকির (Subsidy) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও তার এই জনমোহিনী প্রস্তাবগুলো ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে, কিন্তু অর্থনীতিবিদরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, জাপানের মতো স্থবির অর্থনীতির দেশে এ ধরনের বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও করছাড় দীর্ঘমেয়াদে ‘Economic Pressure’ বা অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে হাজার হাজার ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে জাপানের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা নীতি, অর্থনৈতিক গতিপথ এবং এশিয়ায় দেশটির কৌশলগত অবস্থান। আজকের ভোটগ্রহণ শেষে রাতে প্রাথমিক ফলাফল বা ‘Exit Poll’-এর আভাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: sanae takaichi economic pressure japan election ldp japan snap election lower house tokyo voting female prime minister political scandal coalition government