লিবিয়ার উপকূলে ইউরোপগামী অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবার নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ৫৩ জন মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ বেঁচে যাওয়া দুই নারী জানিয়েছেন, তারা নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করেছে। আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা ছিলেন। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরু করার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে সেটি ডুবে যায়।
বেঁচে ফেরা দুই নারীর আর্তনাদ উদ্ধার হওয়া দুই নারীর একজন তার স্বামীকে হারিয়েছেন। অন্যজন জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে তার দুই সন্তানই মারা গেছে। আইওএম-এর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বর্তমানে তাদের জরুরি চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করছেন। উদ্ধারকৃতরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে আল-জাওইয়া থেকে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন।
বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগর রুট জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। কেবল গত জানুয়ারি মাসেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৩৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি? ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া মানব পাচারকারীদের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সাব-সাহারান আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক এই জলপথ বেছে নেন। পাচারকারীরা রাবারের নড়বড়ে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করায় মাঝসমুদ্রেই এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।