বগুড়ার আলোচিত ও বিতর্কিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করেছেন আদালত। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই আদেশ দেওয়া হয়। পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালত এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ (Legal Action) গ্রহণ করেন।
আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়া মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক এই মামলার শুনানি শেষে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই রিপোর্টে হিরো আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও গুরুতর অভিযোগ মামলার নথিপত্র এবং ভুক্তভোগী সাদিয়া রহমান মিথিলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলম তাঁকে সিনেমায় নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা আইনি ভাষায় ধর্ষণের শামিল। অভিযোগকারীর দাবি, হিরো আলম তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (Physical Abuse) করেছেন এবং এক পর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতেও বাধ্য করেন।
সাদিয়া রহমান মিথিলা জানান, হিরো আলম যখন বিয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন এবং দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন, তখন বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।
পিবিআই তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, হিরো আলমের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ও জনপরিসরে হিরো আলম সবসময় নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করলেও, এই মামলার অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।
বর্তমানে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আদালতের পরোয়ানা জারির পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বিনোদন জগতের এই আলোচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং আদালতের কঠোর অবস্থান এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।