ভালোবাসা দিবসের আবহে যখন চারদিকে প্রেমের গুঞ্জন, ঠিক তখনই দর্শকদের স্নায়ুচাপ বাড়াতে রূপালি পর্দায় আসছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অপরাধের উপাখ্যান। বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান ঔপন্যাসিক ডন উইন্সলোর জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘ক্রাইম ১০১’ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। একই দিনে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে এই বহুল প্রতীক্ষিত ক্রাইম থ্রিলার। হলিউডের হেভিওয়েট তারকাদের সমাগমে বছরের শুরুতেই বক্স অফিসে ঝড় তোলার সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছে এই প্রোডাকশন।
অ্যামাজন বনাম নেটফ্লিক্স: পর্দার নেপথ্যের এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
‘ক্রাইম ১০১’ নির্মাণের শুরু থেকেই হলিউডের অন্দরে ছিল তুমুল উত্তেজনা। ২০২৩ সালে যখন ডন উইন্সলোর এই উপন্যাসের স্বত্ব বিক্রির নিলাম শুরু হয়, তখন স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স এবং অ্যামাজন স্টুডিওস (বর্তমানে আমাজন এমজিএম স্টুডিওস) এর মধ্যে এক বিশাল ‘বিডিং ওয়ার’ (Bidding War) শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের লড়াইয়ে নেটফ্লিক্সকে হারিয়ে বাজিমাত করে অ্যামাজন। এই লড়াই প্রমাণ করে দেয় যে, সিনেমাটির মূল কন্টেন্ট এবং এর কাস্টিং কতটা শক্তিশালী। শুরুতে পেড্রো পাস্কাল এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ সিনেমার শিডিউল জটিলতার কারণে তিনি সরে দাঁড়ান এবং ক্রিস হেমসওয়ার্থের বিপরীতে যুক্ত হন মার্ক রাফালো।
নক্ষত্রখচিত কাস্টিং ও পর্দার রসায়ন
পরিচালক বার্ট লেটন এই সিনেমায় একদল দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে একত্রিত করেছেন। ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ খ্যাত দুই সুপারস্টার ক্রিস হেমসওয়ার্থ এবং মার্ক রাফালো যখন আমনা-সামনি হন, তখন দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী থাকে। এছাড়াও অভিনয়শিল্পী তালিকায় রয়েছেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হ্যালি বেরি, জেনিফার জেসন লেই এবং বর্তমানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা তরুণ তুর্কী ব্যারি কেওগান। লস অ্যাঞ্জেলেসের চোখধাঁধানো লোকেশনে চিত্রায়িত এই সিনেমাটি ইতিমধ্যে লন্ডন প্রিমিয়ারে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডেন কোস্ট এবং ‘ক্রাইম ১০১’-এর অলিখিত নিয়ম
সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া একগুচ্ছ নিখুঁত জুয়েলারি ডাকাতি। এই অপরাধগুলোর ধরণ এতটাই প্রফেশনাল যে পুলিশ কোনো ক্লু খুঁজে পায় না। কোনো বাড়তি রক্তপাত নেই, নেই কোনো অপেশাদার ভুল—সবকিছু যেন নিখুঁত গণিতে সাজানো। অভিজ্ঞ পুলিশ ডিটেকটিভ লু লুবেসনিক (মার্ক রাফালো) বিশ্বাস করেন, অপরাধ জগতের কিছু অলিখিত ম্যানুয়াল বা নিয়ম থাকে, যাকে তিনি ‘ক্রাইম ১০১’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ডিটেকটিভের ধারণা, একজন বিশেষ মাস্টারমাইন্ড এই নিখুঁত অপরাধগুলো করে যাচ্ছে যে কোনো অবস্থাতেই ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ ভঙ্গ করে না। কিন্তু থ্রিলার মোড় নেয় তখনই, যখন একটি ডাকাতির সময় সব নিয়ম ওলটপালট হয়ে যায়। ডিটেকটিভ বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ চুরি নয় বরং এর নেপথ্যে কাজ করছে এক বিশাল ডার্ক সিন্ডিকেট। একজন ধূর্ত অপরাধী বনাম একজন তুখোড় ডিটেকটিভের এই ইঁদুর-বিড়াল দৌড় দর্শকদের সিটের কোণায় বসিয়ে রাখতে বাধ্য করবে।
উন্মাদনা ও সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই গ্লোবাল অডিয়েন্স এবং বাংলাদেশের মুভি-প্রেমীদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক হাইপ লক্ষ্য করা গেছে। স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রিলিজের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের এই উচ্চমানের সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং হাই-ডেফিনিশন পর্দায় এই ‘ক্রাইম থ্রিলার’ দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।