• দেশজুড়ে
  • নির্বাচনের আগের রাতে নাশকতার শঙ্কা? বেগমগঞ্জে জিআই পাইপসহ আটক যুবককে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দিল জনতা

নির্বাচনের আগের রাতে নাশকতার শঙ্কা? বেগমগঞ্জে জিআই পাইপসহ আটক যুবককে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দিল জনতা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনের আগের রাতে নাশকতার শঙ্কা? বেগমগঞ্জে জিআই পাইপসহ আটক যুবককে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দিল জনতা

স্থানীয়দের দাবি আটক ব্যক্তি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট, পতাকা টানানোর অজুহাত দিলেও আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কড়া সতর্কবার্তা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ঠিক এমন এক মুহূর্তে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জিআই পাইপসহ এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আটকের পরপরই ওই যুবককে এলাকায় টহলরত সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উত্তেজিত জনতা ও জিআই পাইপ উদ্ধার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বেগমগঞ্জ থানা এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই যুবককে আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দোকানের ভেতরে সাদা ও সবুজ রঙের বেশ কিছু 'জিআই পাইপ' (GI Pipe) সহ ওই যুবককে ঘিরে রেখেছে স্থানীয় জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নির্বাচনের আগের রাতে এসব পাইপ বা লাঠি জড়ো করার পেছনে বড় ধরণের 'সাবোটাজ' (Sabotage) বা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ওই ব্যক্তি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

দলীয় পতাকা নাকি নাশকতার প্রস্তুতি?

জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক দাবি করেন, পাইপগুলো কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং দলীয় পতাকা টানানোর লাঠি হিসেবে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ স্থানীয়রা। তাদের মতে, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে পতাকা টানানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই। জনতার দাবি, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভোটারদের ভয় দেখানোর লক্ষ্যেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই সরঞ্জামগুলো মজুত করা হয়েছিল।

সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের তৎপরতা

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়রা যুবককে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিলে তাকে দ্রুত প্রশাসনিক হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate) আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক বিষয়টিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক হিসেবে গণ্য করে তাকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “স্থানীয়রা ওই যুবককে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে জরিমানা করা হয়েছে। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং 'ল এনফোর্সমেন্ট' (Law Enforcement) নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।”

নিরাপত্তা চাদরে নোয়াখালী

উল্লেখ্য, নির্বাচনের দিন নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য মাঠে কাজ করছেন। এর মধ্যেই বেগমগঞ্জের এই ঘটনাটি ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বড় ধরণের গোলযোগ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের নিয়মিত টহল বজায় থাকায় এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

Tags: bangladesh election law enforcement local politics sabotage plan election security noakhali news army patrol begumganj incident gi pipe magistrate court