ভোটের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা: গাজীপুরে পুলিশ বাহিনীর বিশেষ প্রস্তুতি ও কড়া বার্তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ব্যাপক ব্রিফিং ও নির্দেশনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর মহানগরীর বিআরটি মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উদ্যোগে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি সদস্যকে সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নিয়মিত ও মোবাইল টহল বৃদ্ধি, সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি এবং ভোটগ্রহণের আগে ও পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) তাহেরুল হক চৌহানসহ বিভিন্ন জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার, থানার অফিসার ইনচার্জ এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও কঠোর বার্তার মাধ্যমে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্ট করেছে-ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।