দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনি লড়াইয়ের ময়দানী লড়াই শেষে এখন চলছে প্রাপ্ত ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছে বিএনপি। তবে জয়-পরাজয়ের এই সমীকরণের মধ্যেও একটি বিশেষ পরিসংখ্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে—আর তা হলো জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ৭১টি আসন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ‘ক্রিপ্টিক’ বা ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী তারিন জাহান।
‘আল্লাহর লীলা খেলা বোঝা বড় ভার’
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তারিন জাহান তার ফেসবুক ওয়ালে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেন। সবুজ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডে লেখা সেই পোস্টে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, “আল্লাহর লীলা খেলা বোঝা বড় ভার! জামায়াতের কপালে সিট ৭১টা। একটা কমও না, বেশিও না।”
তারিনের এই পোস্টে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রেক্ষাপটে ‘৭১’ সংখ্যাটিকে একটি বিশেষ রূপক হিসেবে দেখছেন অনেক নেটিজেন। অভিনেত্রী কেবল তথ্যের বয়ান দেননি, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত সমাপতনকেও সামনে এনেছেন।
পরিকল্পনা ও বিধাতার বিধান: তারিনের দার্শনিক অবস্থান
নিজের প্রতিক্রিয়ায় তারিন আরও একধাপ এগিয়ে একটি সুপরিচিত প্রবাদ ব্যবহার করেছেন। তিনি লেখেন, “একেই বলে Man proposes God disposes। যার বাংলা অর্থ—মানুষ পরিকল্পনা করে, ঈশ্বর নিষ্পত্তি করেন।” তারিনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক অনুরাগী মনে করছেন, ভোটের মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি বা পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল যে অনেক সময় প্রতীকী হয়ে দাঁড়ায়, তারিন সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড়
তারিনের এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে ‘ঐতিহাসিক কাব্যিক বিচার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর অতীত ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে বিতর্ক এড়াতে এবং সাইবার বুলিং ঠেকাতে অভিনেত্রী তার পোস্টের ‘কমেন্ট সেকশন’ সীমিত করে রেখেছেন। তা সত্ত্বেও শেয়ার এবং রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে পোস্টটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক এনগেজমেন্ট অর্জন করেছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তারিনের বর্ণাঢ্য পথচলা
তারিন জাহান কেবল একজন অভিনেত্রীই নন, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রজ ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৫ সালে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে তার পথচলা শুরু। অভিনয়, নৃত্য এবং আবৃত্তিতে সমান পারদর্শী তারিন তিনবার মর্যাদাপূর্ণ ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ জয় করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য কালজয়ী নাটক এবং চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজেকে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোতে তারিনের এমন সাহসী ও সময়োপযোগী মন্তব্য প্রায়ই জনমনে গভীর প্রভাব ফেলে।