সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। তবে এই ভোট ঘিরে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নাগরিক দায়িত্ব পালনের টানে ঢাকা থেকে পাড়ি জমিয়েছেন শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে। ভোটের উত্তেজনা ও রোমাঞ্চে নির্বাচনের আগের রাতে দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি এই অভিনেত্রী।
ভোটের আনন্দ ও বিনিদ্র রজনী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শরীয়তপুরের একটি কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ (Voting Rights) করেন প্রভা। ভোট দেওয়ার পর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন। প্রভা জানান, ভোটের আমেজ তাকে এতটাই আলোড়িত করেছে যে, উত্তেজনায় আগের রাতে তার ঘুমই হয়নি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “পুরো পরিবেশটা একেবারে উৎসবের মতো। ঈদের সময় বাড়ি ফিরলে যেমন অনুভূতি হয়, ঠিক তেমনটাই লাগছে। আমি সত্যিই খুব এক্সাইটেড ছিলাম। সত্যি বলতে, সেই উত্তেজনায় কাল রাতে আমি ঘুমাতেই পারিনি।” প্রভার এই স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Social Media) তার ভক্তদের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কর্মব্যস্ততা ছাপিয়ে নাগরিক দায়বদ্ধতা একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে প্রভার সিডিউল থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। তবুও ব্যক্তিগত কাজ ও শুটিংয়ের ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে তিনি গ্রামের বাড়িতে ছুটে গেছেন কেবল ভোট দেওয়ার জন্য। একে তিনি ‘নাগরিক দায়িত্ব’ হিসেবেই দেখছেন।
প্রভা বলেন, “অনেক ব্যস্ততা যাচ্ছে। সব কাজ ফেলে কষ্ট করে এখানে এসেছি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে, দেশের টানে। আমার একটি ভোট যদি কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে বিজয়ী করে নিয়ে আসতে পারে, সেই আশা নিয়েই এসেছি। ছুটির দিনে বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমি মনে করি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কেমন বাংলাদেশ চান প্রভা? ভোট দেওয়ার পর কেবল নিজের পছন্দের প্রার্থীর জয়ই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন।
প্রভা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, “আমি সেই বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমি বড় হয়েছি। একাত্তরের চেতনা, একুশের আত্মিক টান, অমর একুশে বইমেলা, ছাব্বিশে মার্চ, পয়লা ফাল্গুন কিংবা পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবগুলো হবে আমাদের পরিচয়। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ যেন নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, আমি তেমন একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।”
তারকাদের ভোট ও নির্বাচনী পরিবেশ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানীসহ সারাদেশের কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের প্রথম সারির তারকারা ভোট দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আঙুলের ছাপ দেওয়া ছবি শেয়ার করে অনেকেই তাদের ফ্যান-ফলোয়ারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেছেন। প্রভার মতো অনেক তারকার এই অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব (Positive Impact) ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রভার এই ভোট প্রদানের গল্প কেবল একজন সেলিব্রেটির অভিজ্ঞতা নয়, বরং তা তরুণ প্রজন্মের কাছে নাগরিক অধিকার ও দেশপ্রেমের একটি বার্তা হিসেবে পৌঁছে গেছে।