ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চূড়ান্ত নাটকীয়তা শেষে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কেশবপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হলো।
ভোটের ব্যবধান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক মোক্তার আলী মোট ৯১,০৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯,১৫৯ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১১,৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন অধ্যাপক মোক্তার আলী। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে সকাল থেকেই ‘সেয়ানে সেয়ানে’ লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত ‘Public Mandate’ বা জনরায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষেই গেছে।
তৃণমূলের উচ্ছ্বাস ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ফলাফল ঘোষণার পরপরই কেশবপুর উপজেলা সদরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে তারা এই বিজয় উদযাপন করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে ‘ইনসাফ’ বা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই ফলাফল তারই প্রতিফলন। তৃণমূল পর্যায়ে সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ‘Door-to-Door’ ক্যাম্পেইন অধ্যাপক মোক্তার আলীর এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি কেশবপুরবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই বিজয় কেবল আমার নয়, এটি কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষের। ভোটাররা যে পবিত্র আমানত আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষায় আমি জীবনপণ চেষ্টা করব।” তিনি আরও জানান, এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অবহেলিত জনপদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করবেন।
কেশবপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যশোর-৬ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল ‘Voter Turnout’ রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে ভোটের এই ব্যবধান ভবিষ্যতে এই আসনের ‘Political Landscape’ বা রাজনৈতিক ভূখণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সমর্থন এই নির্বাচনে একটি ‘Deciding Factor’ হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কেশবপুরে শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।