দেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরসূরি এবং বগুড়ার ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত তারেক রহমানের এই বিজয় জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের সমীকরণ ও নিরঙ্কুশ ব্যবধান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ কর্তৃক নিশ্চিত করা তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৯টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তারেক রহমান পেয়েছেন ১,৬১,৬৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৭৩,১৮০ ভোট। গাণিতিক হিসেবে তারেক রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৮৮,৪৭১ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায় একটি ‘Landslide Victory’ বা ভূমিধস বিজয়। মাত্র একটি কেন্দ্রের ফলাফল বাকি থাকলেও ব্যবধান এতটাই বেশি যে, তারেক রহমানের জয় এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
বগুড়ার রাজনৈতিক মহলে উচ্ছ্বাস নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই বগুড়া শহর ও আশেপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই জয়কে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নৈতিক জয় এবং ‘পাবলিক ম্যান্ডেট’-এর প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাহ এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তারেক রহমান ১৫০টি কেন্দ্রেই তার আধিপত্য বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “বগুড়ার মানুষ তাদের ঘরের সন্তানকে উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছেন। এই বিপুল ভোট প্রমাণ করে যে, বগুড়া আজও জিয়ার আদর্শের অবিচল দুর্গ।”
নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের মনোভাব বগুড়া-৬ আসনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তরুণ থেকে বয়োবৃদ্ধ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে বাড়তি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর সাথে ভোটের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য জাতীয় রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই নির্বাচনী বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দলটির পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এই ‘Massive Mandate’ দলটিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নতুন শক্তি জোগাবে। বগুড়া সদরের এই বিজয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং এটি বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
উৎসবমুখর বগুড়া বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বগুড়া জেলা কার্যালয়সহ শহরের প্রধান মোড়গুলোতে নেতা-কর্মীরা বিজয় উল্লাস করছেন। মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে তারা তাদের নেতার এই সাফল্য উদযাপন করছেন। সাধারণ ভোটারদের অভিমত, বগুড়ার উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে সঠিক নেতৃত্বের প্রত্যাশায় তারা এই রায় দিয়েছেন।