উত্তরবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও হাই-ভোল্টেজ এই লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল বারী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০৪টি কেন্দ্রের সব কটির ফলাফল সমন্বয় শেষে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোটের পরিসংখ্যান ও বিশাল ব্যবধান নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. আব্দুল বারী মোট ১,৫৭,১২৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী এস. এম. রাশেদুল আলম সবুজ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৯১,১১২ ভোট। অর্থাৎ, আব্দুল বারী তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৬,০১৫ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল প্রার্থীর নয়, বরং এলাকায় দলটির ‘Political Mandate’ বা জনভিত্তির প্রতিফলন।
নির্বাচনী মাঠের চিত্র ও ভোটার উপস্থিতি জয়পুরহাট-২ আসনের ১০৪টি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত এবং ‘ম্যাসিভ টার্নআউট’ লক্ষ্য করা গেছে। কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে কোনো বড় ধরনের গোলযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন নির্বাচনের সামগ্রিক আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘Tight Security’ ব্যবস্থা ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করে।
বিএনপি-জামায়াত দ্বৈরথ ও রাজনৈতিক সমীকরণ এই নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে মূল লড়াইটি সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। এক সময়কার মিত্র এই দুই দলের প্রার্থীদের ভোট যুদ্ধ আসনটিকে বিশেষ গুরুত্বের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ধানের শীষের আব্দুল বারীর বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা বিএনপির নেতৃত্ব ও স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং দক্ষ ‘Election Management’ এই ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও উৎসব ফলাফল ঘোষণার পর জয়পুরহাটের রাজপথে নেমে আসে মানুষের ঢল। বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে ধানের শীষের সপক্ষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী তার প্রতিক্রিয়ায় এই জয়কে ‘জয়পুরহাটের মানুষের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী দিনে কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুরের সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও প্রত্যাশা অবহেলিত এই জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে নতুন নেতৃত্ব বিশেষ দৃষ্টি দেবেন বলে ভোটাররা আশা প্রকাশ করছেন।