• দেশজুড়ে
  • ভোলার সিংহাসনে আবারও পার্থ: জামায়াত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাজিমাত বিজেপি চেয়ারম্যানের

ভোলার সিংহাসনে আবারও পার্থ: জামায়াত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাজিমাত বিজেপি চেয়ারম্যানের

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভোলার সিংহাসনে আবারও পার্থ: জামায়াত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাজিমাত বিজেপি চেয়ারম্যানের

২০০৮-এর স্মৃতি ফিরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ; উচ্ছ্বসিত দ্বীপজেলা ভোলার সাধারণ মানুষ।

দ্বীপজেলা ভোলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ভোলা-১ (সদর) আসনে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আধিপত্য বিস্তার করলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য (Member of Parliament) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে পার্থর এই বিজয়কে ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ভোটের লড়াই ও চূড়ান্ত ব্যবধান সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ঘোষিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন ১,০৪,৪৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৭৩,৭৭৩ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান ১৫,০৯১ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের Parliamentary Seat পুনরুদ্ধার করেছেন পার্থ।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ২০০৮-এর স্মৃতি আন্দালিব রহমান পার্থর এই জয় কেবল ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং এটি তার পারিবারিক রাজনৈতিক লিগ্যাসি (Political Legacy) এবং ভোলার মানুষের সাথে তার গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। এর আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর আবারও ভোলার ভোটাররা তাদের ‘ঘরের সন্তান’ হিসেবে পরিচিত এই তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ানকে বেছে নিলেন।

জামায়াতের স্বপ্নভঙ্গ ও ভোটের মাঠের লড়াই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই ভোলা-১ আসন নিয়ে সারাদেশে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জামায়াতে ইসলামী এবার এই আসনে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিল। তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান এবং ক্যাডারভিত্তিক ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে তারা পার্থকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ভোটের মাঠে তরুণ ভোটারদের টানতে দুই পক্ষই আধুনিক ক্যাম্পেইন স্ট্রেটেজি (Campaign Strategy) ব্যবহার করে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যারিস্টার পার্থর ব্যক্তিগত কারিশমা এবং জোটের একক নেতৃত্বের কাছে হার মানতে হয়েছে জামায়াত প্রার্থীকে।

তৃণমূলের উচ্ছ্বাস ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ভোলা শহরে আনন্দ মিছিল বের করেন বিজেপি ও বিএনপি জোটের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ ভোটারদের মতে, ভোলার উন্নয়ন এবং জাতীয় সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের প্রয়োজনীয়তা থেকেই তারা পার্থকে পুনরায় নির্বাচিত করেছেন। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তিনি ভোলার নদী ভাঙন রোধ এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কোনো বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ভোলার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ ব্যালট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাররা তাদের জনম্যান্ডেট (Public Mandate) প্রদান করেছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে পার্থর এই বিশাল জয়ে।

Tags: bangladesh politics bhola news bnp alliance bhola-1 election result andaleeve partho bjp win parliament member voting update partho wins