• আন্তর্জাতিক
  • ঢাকার নির্বাচনে কার জয়? চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় দিল্লি; সম্পর্কের নতুন রসায়ন নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত আমির

ঢাকার নির্বাচনে কার জয়? চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় দিল্লি; সম্পর্কের নতুন রসায়ন নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ঢাকার নির্বাচনে কার জয়? চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় দিল্লি; সম্পর্কের নতুন রসায়ন নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত আমির

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তা; এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিবেশীর সঙ্গে ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে সুসম্পর্ক গড়ার ঘোষণা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক গণভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের পর এখন দেশজুড়ে চলছে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনার এই আবহে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।

দিল্লির নজর এখন ঢাকার ‘ম্যান্ডেট’-এর দিকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। জয়সওয়াল বলেন, “নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। বাংলাদেশের মানুষ কী ধরনের ‘Mandate’ বা জনসমর্থন দিয়েছেন, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা (Review) করব।”

তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত বরাবরের মতোই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দিল্লির এই নমনীয় অথচ সতর্ক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে সম্পর্কের সমীকরণ নির্ধারণে ভারত ‘Wait and Watch’ নীতি অনুসরণ করছে।

প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কই ‘অগ্রাধিকার’: জামায়াত আমির এদিকে, নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে (NDTV) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের অন্যতম ‘Priority’ বা অগ্রাধিকার।”

দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর সাথে ভারতের এক ধরনের ‘Trust Deficit’ বা আস্থার সংকট থাকলেও, আমিরের এই বক্তব্যকে কৌশলগত শিফট (Strategic Shift) হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সংখ্যালঘু প্রশ্নে কড়া বার্তা ও ভারত সফরের ইঙ্গিত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আমরা সবাই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমরা কখনোই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজনকে (Religious Division) সমর্থন করি না। এখানে সবাই সমান অধিকারের অধিকারী।”

ভারত সফর প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দিল্লি সফরে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বিধা বা বাধা নেই। তবে নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং দলীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভূ-রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitics) প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত চায় ঢাকায় একটি স্থিতিশীল সরকার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে দিল্লির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নতুন কোনো আঞ্চলিক মেরুকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ঢাকার ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, দিল্লির সাথে বিদ্যমান ‘Strategic Relationship’ বজায় রাখা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে বড় পরীক্ষা। আপাতত সবার দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

Tags: bangladesh election jamaat islami mea india shafiqur rahman regional politics ndtv interview election result india reaction bilateral relation delhi dhaka