• আন্তর্জাতিক
  • বিশ্ব গণমাধ্যমের লাইভ কাভারেজে বাংলাদেশের ভোট: রয়টার্স-আল জাজিরার চোখে এটি ‘গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা’

বিশ্ব গণমাধ্যমের লাইভ কাভারেজে বাংলাদেশের ভোট: রয়টার্স-আল জাজিরার চোখে এটি ‘গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিশ্ব গণমাধ্যমের লাইভ কাভারেজে বাংলাদেশের ভোট: রয়টার্স-আল জাজিরার চোখে এটি ‘গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা’

জেন-জি ভোটারদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, ইসলামপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপপ্রয়োগ নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলো।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় আজ ব্যালট যুদ্ধে নেমেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেবল নতুন সরকার গঠনই নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’ (National Charter 2025) নিয়ে আয়োজিত গণভোটের কারণে এই দিনটি বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আর সে কারণেই কাতারভিত্তিক আল জাজিরা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স কিংবা আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস—সবার নজরে এখন ঢাকা।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে ‘গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা’

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ সকাল থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ (Live News) প্রচার করছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের এই অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের ‘একনায়কতন্ত্রের’ পর গণতন্ত্রে ফেরার পথে এক বড় চ্যালেঞ্জ। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, এবারের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে। এই জোটে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনের রূপকার তরুণ প্রজন্মের ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (NCP)-র অন্তর্ভুক্তিকে এক নতুন সমীকরণ হিসেবে দেখছে তারা। দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের (Economic Development) প্রতিশ্রুতিই ভোটারদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

রয়টার্সের নজরে ‘জেন-জি’ ভোটারদের দাবি

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের শিরোনাম ছিল: ‘বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা: চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’। রয়টার্স বলছে, তরুণ প্রজন্মের কাছে এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হলো ‘Job Creation’ বা কর্মসংস্থান এবং ভয়হীনভাবে কথা বলার স্বাধীনতা। প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের পর এই প্রথম একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখছে বিশ্বের অষ্টম জনবহুল এই দেশ। তৈরি পোশাক খাতের (RMG Sector) স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ডয়চে ভেলের চোখে ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক উত্থান

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW) তাদের প্রতিবেদনে এক ভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরেছে। তারা বলছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী শক্তিগুলো এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাদের এই উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড়। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থী দলগুলোর এমন শক্তিশালী নির্বাচনী অবস্থানকে ‘Political Future’ পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছে তারা।

নিরাপত্তা ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র নিয়ে দ্য হিন্দুর উদ্বেগ

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু নজর দিয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচনী নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর (Security Infrastructure) ওপর। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি (CCTV) এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তারা। এক লাখ সেনাসদস্যসহ প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের মোতায়েন করাকে একটি নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

দ্য ডন ও এআই-এর অপপ্রয়োগ নিয়ে সতর্কতা

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব। তারা বলছে, এবারের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে ভুয়া অডিও-ভিডিও এবং ‘Deepfake’ কনটেন্ট ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে ডন বলছে, দোদুল্যমান ভোটারদের (Uncertain Voters) প্রভাবিত করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াতে এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট (AI-generated content) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসংহার: বিশ্ববাসীর প্রতীক্ষা

এএফপি (AFP) এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো মাধ্যমগুলো তরুণ ভোটারদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার যে স্বাধীনতা তরুণরা ফিরে পেয়েছে, তা নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—জনগণের রায়ে কোন পথে হাঁটে আগামীর বাংলাদেশ।

Tags: bangladesh election political stability international media election security reuters report al jazeera gen-z voters ai misinformation