বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন মানেই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি সাধারণ সৌজন্য— ‘হ্যান্ডশেক’। আগামীকাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে যখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে, তখন দুদলের ক্রিকেটাররা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে এবার সরাসরি কথা বললেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও ক্রিকেটের বাইশ গজ ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতি নতুন কিছু নয়। গত বছর এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হলেও দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথাগত হ্যান্ডশেক বা সৌজন্য বিনিময় লক্ষ্য করা যায়নি। পহেলগাম হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে ভারত ক্রিকেটীয় সৌজন্য থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে প্রশাসনিক স্তরেও। ইদানীংকালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং পিসিবি (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ নিয়ে জটিলতার জেরে সেই ট্রফিটি এখনও দুবাইয়ের এসিসি (ACC) অফিসে পড়ে আছে।
আইসিসি’র হস্তক্ষেপ ও ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা সম্প্রতি জয় শাহ’র নেতৃত্বাধীন আইসিসি (ICC) বাংলাদেশকে ভারত সফরে যেতে অসম্মতি জানানোয় বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান জানিয়েছিল, তারা ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মাঠে নামবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইসিসি’র একটি হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দল লাহোরে গিয়ে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মাঠে নামতে রাজি করায়। এতসব নাটকের পর আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর মাঠে গড়াচ্ছে এই মেগা ফিক্সচার।
কী বললেন সালমান আগা? আজকের প্রাক-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে (Press Conference) এক সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— ‘ভারত যদি হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে কি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হ্যান্ডশেক করবেন?’ জবাবে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা অত্যন্ত কৌশলী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা আগামীকাল মাঠেই দেখব।”
তবে ব্যক্তিগতভাবে সালমান ক্রিকেটের প্রকৃত চেতনা বা স্পোর্টসম্যানশিপের (Sportsmanship) পক্ষেই মত দিয়েছেন। তিনি যোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করি খেলাটি সবসময় ভালো মানসিকতা এবং সৌহার্দ্যের সঙ্গে খেলা উচিত। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস বড় কথা নয়, বরং ক্রিকেট যেভাবে শুরু থেকে খেলা হয়ে আসছে, অর্থাৎ যে স্পিরিট নিয়ে খেলা উচিত, সেভাবেই হওয়া উচিত।”
পর্যটন ও ভক্তদের উন্মাদনা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতেও লেগেছে জোয়ার। কলম্বোর হোটেল থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু সব ছাপিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই— কালকের ম্যাচে কি কেবল ব্যাটে-বলের লড়াই হবে, নাকি মাঠের সৌজন্যে ফিরবে নতুন কোনো সমীকরণ? ক্রিকেট বিশ্ব এখন সেই প্রতীক্ষায়।