চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় হাতবোমা তৈরির সময় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক। ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টা পর পুলিশের তৎপরতায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় ও ঘটনাস্থলের বর্ণনা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের ওপর ধুমিহায়াতপুর এলাকার মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (১৭)। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জিহাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে। সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালুর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতকারী সমবেত হয়ে শক্তিশালী হাতবোমা বা ‘Hand-made Bomb’ তৈরি করছিল। সেই সময় হঠাৎ অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণ ঘটলে ঘটনাস্থলেই দুজনের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
আহতদের অবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতা বিস্ফোরণে কেবল দুজন নিহতই হননি, গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন। আহতরা হলেন—চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মো. বজলুর রহমান (২০) ও মো. মিনহাজ (২২) এবং রাণিহাটি ইউনিয়নের মো. শুভ (২০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (RMCH) স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকার পর বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া বা ‘Legal Formalities’ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, “ভোররাতে একাধিক ককটেল বা আইইডি (IED) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত বা ‘Evidence’ সংগ্রহ করেছি। ঠিক কী উদ্দেশ্যে সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল এবং কারা এর নেপথ্যে কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নাশকতার আশঙ্কা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ ভোরবেলার এই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো ফাটাপাড়া গ্রাম। দীর্ঘ ১০-১১ ঘণ্টা মরদেহ পড়ে থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দেয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি বসতবাড়িতে এমন বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড চললেও তা আগে থেকে টের পাওয়া যায়নি কেন? কোনো বড় ধরণের ‘Political Violence’ বা নাশকতামূলক কাজের উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলো তৈরি করা হচ্ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।