ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের চিত্র বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থীই ন্যূনতম জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের অন্তত ৮ ভাগের একভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
দলগত পারফরম্যান্স ও জামানত প্রাপ্তি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চমক দেখিয়েছে। দলটির কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র তিন জন প্রার্থীর জামানত হারিয়েছে।
বিপর্যয়ে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দল জাতীয় পার্টির জন্য এবারের নির্বাচন ছিল চরম বিপর্যয়ের। ১৯৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও দলটির মাত্র পাঁচ জন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। অর্থাৎ দলটির প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে লড়াই করে ৩ জন প্রার্থীর জামানত হারিয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ এবং নাগরিক ঐক্যের মতো দলগুলোর অধিকাংশ প্রার্থীই জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
আর্থিক ক্ষতি ও আইনি নিয়ম নির্বাচন কমিশন এবার প্রার্থীর জামানতের টাকা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছিল। জামানত হারানো ১ হাজার ৩৪৭ জন প্রার্থীর এই বিশাল অংকের টাকা এখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পেলে কোনো প্রার্থীই এই টাকা ফেরত পাওয়ার যোগ্য হন না।
নির্বাচনী ফলাফল একনজরে শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি এবং আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল স্থগিত রয়েছে। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া এনসিপি ৬টি ও অন্যান্য ছোট দলগুলো বাকি আসনগুলোতে জয় পেয়েছে।