চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মহাকাশে এক বিরল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বা ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘিরে বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যা অনুরাগী মহলে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
গ্রহণ শুরুর সময় ও স্থায়িত্ব রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আইএসপিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী এই গ্রহণ সকাল ৭টা ১ মিনিটে শুরু হবে। এর সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হতে পারে ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হয়ে রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে।
বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে? আকাশপ্রেমীদের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদ হলো, এই বিরল সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দেখা যাবে না। আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই বলয়গ্রাস গ্রহণটি দেশের কোনো প্রান্ত থেকেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না।
যেখান থেকে দেখা যাবে ‘রিং অব ফায়ার’ বাংলাদেশ থেকে দেখা না গেলেও বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে এই সূর্যগ্রহণ স্পষ্ট হবে। আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
গ্রহণ গতিপথের বিস্তারিত তথ্য আইএসপিআর জানায়, অ্যান্টার্কটিকার চিলির ইয়েলচো গবেষণাগার ঘাঁটি থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হবে। সর্বশেষ এটি মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে শেষ হবে।
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ আসলে কী? যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এমনভাবে আসে যে সূর্যের কেন্দ্রটি ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু চারপাশ দিয়ে সূর্যের উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়, তাকেই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বা ‘রিং অব ফায়ার’ বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের তুলনায় এটি দৃশ্যত অনেক বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।