সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বড় ধরনের এক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোবাগি এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ১২২৫ বোতল বিভিন্ন নামী ‘Brand’-এর ভারতীয় মদসহ আন্তঃজেলা মাদক চোরাচালান চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদ ও রোমাঞ্চকর অভিযান পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে বিপুল পরিমাণ মাদকের একটি বড় ‘Consignment’ রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। ভোররাতে নোবাগি এলাকায় পুলিশি চেকপোস্ট দেখে চালক মাইক্রোবাসটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের ‘High-speed’ তৎপরতায় গাড়িটিকে গতিরোধ করা সম্ভব হয়। তল্লাশিকালে গাড়ির ভেতর থেকে সারি সারি সাজানো মদের বোতল দেখে খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান।
জব্দকৃত মদের পরিমাণ ও ‘Market Value’ পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মাইক্রোবাসটি থেকে বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মোট ১২২৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক ‘Market Value’ বা বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকারও বেশি। মাদকের এই বিশাল চালানটি মূলত রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও নেটওয়ার্ক মাদক পরিবহনের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন: ১. রাকিবুল ইসলাম রুবেল (৩৪): তিনি বাজিতপুর থানার চন্দ্রগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার মুগদা এলাকায় বসবাস করেন। ২. সাগর মোল্লা (৩৪): তিনি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার হালিয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার মাতুয়াইলে বসবাস করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরবরাহ করে আসছিল। এই সিন্ডিকেটের পেছনে আরও রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আইনি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত পরিকল্পনা করে এই বড় চালানটি ধরতে সক্ষম হয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোকে মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। আজকের এই সাফল্য সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।