পটুয়াখালী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় পটুয়াখালীতে আনন্দের জোয়ার বইছে। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা শহর ও তার নির্বাচনী এলাকায় বিশাল আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন নেতাকর্মীরা।
উল্লাস ও বিজয় মিছিলের চিত্র
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের যৌথ আয়োজনে শহরের ‘ছোট চৌরাস্তা’ মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘শহীদ হৃদয় তরুয়া চত্বরে’ গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন কয়েকশ’ নেতাকর্মী। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি এক সময় উৎসবে পরিণত হয়।
তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের শিখরে: এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে নেতাকর্মীরা নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক উত্থানকে একটি ‘Political Milestone’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে যে সংগ্রামের শুরু হয়েছিল, তা আজ পূর্ণতা পেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভিপি থেকে শুরু করে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং সবশেষে প্রতিমন্ত্রী হওয়া—নুরুল হক নুরের এই ‘Leadership Journey’ পটুয়াখালীবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের।
বিশেষ করে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ায় বেকারদের কর্মসংস্থান (Job Creation) এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির (Manpower Export) ক্ষেত্রে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন বলে পটুয়াখালীবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কেক কাটা
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি এদিন পালিত হয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শহরের ঝাউতলা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এক আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটা হয়। এ সময় সংগঠনের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীবাসীর প্রত্যাশা
নুরুল হক নুর ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসায় তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গেছে। পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা, তাদের প্রিয় নেতা কেবল মন্ত্রণালয় নয়, বরং অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি জাতীয় পর্যায়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হবেন—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের চাওয়া।
শপথ গ্রহণের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরুকে নিয়ে অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। রাজপথের লড়াই থেকে উঠে এসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশীদার হওয়া নুরুল হক নুর আগামীর রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।