ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জয়জয়কার। এই প্রথম চট্টগ্রামের কোনো নেতা স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চট্টগ্রামের প্রতিনিধি সূত্রমতে, চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অন্যদিকে, দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ইতিহাসে এর আগে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে কেউ এই দুই মন্ত্রণালয়ে বসেননি। যদিও বিগত সংসদে ওয়াসিকা আয়েশা খান অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ সালে অলি আহমেদ কিছুদিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পাহাড় ও সমতলে নতুন নেতৃত্ব কেবল অর্থ ও স্বরাষ্ট্র নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র।
বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দরের অবস্থান বিবেচনা করলে দক্ষিণ এশিয়ায় চট্টগ্রামের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এবার মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের যোগ্য নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ঘুচবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অতীতের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের অবস্থান ২০০১ সালে গঠিত বিএনপি সরকারেও চট্টগ্রাম থেকে পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় মোরশেদ খান (পররাষ্ট্র), আবদুল্লাহ আল নোমান (শ্রম ও খাদ্য), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (বাণিজ্য) এবং এলকে সিদ্দিকী (পানিসম্পদ) পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া মীর নাছির উদ্দিন এবং জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে এবারের মতো প্রভাবশালী দুটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে পাওয়ার ঘটনাটি নজিরবিহীন।
তরুণ নেতৃত্বের প্রতিফলন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে এবং চট্টগ্রামের মানুষের সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। বিশেষ করে হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।