• দেশজুড়ে
  • নাফ নদীতে ফের মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের থাবা: টেকনাফ থেকে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করল আরাকান আর্মি

নাফ নদীতে ফের মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের থাবা: টেকনাফ থেকে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করল আরাকান আর্মি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নাফ নদীতে ফের মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের থাবা: টেকনাফ থেকে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করল আরাকান আর্মি

সীমান্তে কাটছে না অপহরণ আতঙ্ক; ৭৩ জন ফেরার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'Arakan Army'-র তৎপরতা ও দাপট যেন থামছেই না। দীর্ঘ বন্দি দশা থেকে ৬৭ জন বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ফের অপহরণের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের নিকটবর্তী নাফ নদীর ‘নাইক্ষ্যংদ্বীয়া’ অংশ থেকে ট্রলারসহ পাঁচজন জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে এই Insurgent Group-টি। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় চরম উত্তেজনা ও গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হানা স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে জালিয়াপাড়ার মাহামুদুল্লাহর মালিকানাধীন একটি নৌকায় করে মাছ ধরে উপকূলে ফিরছিলেন জেলেরা। তারা যখন নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ অংশের নাইক্ষ্যংদ্বীয়া নামক স্থানে পৌঁছান, তখনই একটি দ্রুতগামী ‘Speedboat’ তাদের পথ রোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমরা পাঁচটি ট্রলার একসঙ্গে ফিরছিলাম। হঠাৎ একটি ইঞ্জিনের শব্দ কানে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরাকান আর্মির সদস্যরা আমাদের একটি নৌকা ঘিরে ফেলে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে পাঁচজনকে তাদের সীমানার দিকে নিয়ে যায়।” অন্য নৌকাগুলো দ্রুত গতি বাড়িয়ে কোনোমতে নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

নিখোঁজ পাঁচ জেলের পরিচয় অপহৃত জেলেরা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তারা হলেন— শাহেদ, শাহ আলম, আমির আব্বাস ও আবুল হোসেন। পঞ্চম জনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নৌকা ও জালের মালিক মাহামুদুল্লাহ জানান, জেলেরা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জলসীমায় ছিলেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও তারা মূলত জীবিকার তাগিদেই সেখানে গিয়েছিলেন। শাহপরীর দ্বীপের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরটি আমরা বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে জানিয়েছি।”

প্রত্যাবাসনের স্বস্তির মাঝেই নতুন ক্ষত বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই অপহরণের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ঠিক আগের দিন সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির (Border Guard Bangladesh) মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৬৭ বাংলাদেশি ও ৬ রোহিঙ্গাসহ মোট ৭৩ জনকে ফেরত দিয়েছিল আরাকান আর্মি। ওই প্রত্যাবাসনের ফলে সীমান্তে যে স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল, নতুন এই অপহরণের ঘটনায় তা নিমিষেই ম্লান হয়ে গেছে। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে নাফ নদীর সীমানা থেকে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের মধ্যে ২৮০ জনের মতো ফিরে এলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ।

সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূ-রাজনীতি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের এই Maritime Boundary বা সমুদ্রসীমা বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ড্রোন নজরদারি এবং কঠোর টহল সত্ত্বেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই ‘Hit and Run’ কৌশল বা চোরাগোপ্তা অপহরণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নাফ নদীতে মাছ ধরে জীবন ধারণ করা হাজার হাজার জেলে এখন জীবন ও জীবিকার সঙ্কটে পড়েছেন। একদিকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর গোলাবর্ষণ, অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপহরণ—এই দ্বিমুখী সংকটে টেকনাফের জনজীবন বিপর্যস্ত।

উপকূলীয় এই জনপদে এখন শোকের মাতম চলছে। অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যরা নাফ নদীর পাড়ে উদগ্রীব হয়ে বসে আছেন তাদের প্রিয়জনদের ফেরার আশায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

Tags: arakan army naf river maritime security teknaf news coxsbazar news fishermen abducted bangladesh border bgb update insurgent group border crisis