বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান (MBS)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার (SPA) বরাতে এক প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক বার্তার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের এই সন্ধিক্ষণে সৌদি যুবরাজের এই শুভেচ্ছা বার্তাকে দুই দেশের 'Bilateral Relations' বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
অভিনন্দন বার্তায় যা বললেন মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি যুবরাজ তার বার্তায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। তিনি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সৌদি যুবরাজ আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এক নজরে নতুন সরকার ও ঐতিহাসিক বিজয় উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ৫০ সদস্যের একটি বিশালাকার ও সমন্বিত মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এই নতুন ক্যাবিনেটে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাদের হাত ধরে দেশ এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতির জোয়ার তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে অভিনন্দনের বার্তা পাচ্ছেন। সৌদি আরবের আগে চীন ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাকে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য রাষ্ট্রীয় সফরের (State Visit) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৌদি যুবরাজের এই অভিনন্দন বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুসংহত করল।
ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার। জ্বালানি নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং হজ্জ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রতি সৌদি যুবরাজের এই আগাম সমর্থন বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে 'Strategic Partnership' জোরদার করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।