মাদারীপুরের কালকিনিতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ৪০টি শক্তিশালী ককটেল আজ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসব ককটেল নিষ্ক্রিয় করা হয়। দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এসব বিস্ফোরক ধ্বংসের সময় পুরো এলাকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে।
নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বোম ডিসপোজাল কার্যক্রম
বরিশাল থেকে আসা সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরশ মাহামুদের নেতৃত্বে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ককটেলগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেন কালকিনি আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও বোম ডিসপোজাল (Bomb Disposal) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ হারুন অর রশীদ। এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়া চলাকালীন কালকিনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেনসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো এলাকা ঘিরে রেখে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলেন।
নির্বাচনকালীন অভিযানের ফসল
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (National Election) উপলক্ষে মাদারীপুরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই সময় কালকিনির বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই ৪০টি ককটেল উদ্ধার করে সামরিক বাহিনী। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই এই জোরালো অভিযান চালানো হয়েছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনের বক্তব্য
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম এই অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, “উদ্ধারকৃত ককটেলগুলোর বিষয়ে ইতিপূর্বে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ককটেলগুলো দীর্ঘদিন থানায় রাখা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই আদালতের যথাযথ অনুমতি ও নির্দেশনা সাপেক্ষে সেনাবাহিনীর এক্সপার্টদের (Experts) কারিগরি সহায়তায় সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।”
আতঙ্ক ও স্থানীয়দের দাবি
ককটেলগুলো ধ্বংসের সময় সৃষ্ট আকস্মিক ও বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় অনেকেই কৌতূহলী হয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে ছুটে আসেন। দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তাদের শান্ত এলাকায় কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব মরণঘাতী বিস্ফোরক মজুত করেছিল, তা খুঁজে বের করা জরুরি। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টাকারী এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুরবাসী।
সেনাবাহিনীর এই সফল কার্যক্রমের মাধ্যমে কালকিনিতে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি প্রশমিত হলো বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।