বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ঋণ ও দায়–দেনা পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিলো, তা আরেকটু খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। এটিই হলো সত্য।
এটা হতে পারে রাজস্ব আদায়ের অভাব কিংবা চলতি ব্যয়কে সংকোচন না করতে পারা অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সামঞ্জস্য বিধান না করার কারণে। কিন্তু বাস্তবতা হলো–অন্তর্বর্তী সরকার যে ঋণ পরিস্থিতি যে অবস্থায় পেয়েছিলো, তার চেয়ে আরও দুর্বল ও নাজুক বিএনপি সরকার পাবে। অনুষ্ঠানে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
ট্রানজিশন টিমের কাজ প্রসঙ্গে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক বলেন, ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি, বিগত সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলোকে আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।
যে এ চুক্তিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কী না কোনো নিয়ম-নীতির। বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে। সে সমস্ত বৈদেশিক চুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলো হয়তো আমরা অবহিত না।
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এ সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিকেও আবার পুনরায় বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়; যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে পুনঃমূল্যায়ন করতে রাজি আছেন। তাহলে সেগুলো পুনরায় বিবেচনার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। ট্র্যানজিশন দল যদি এই ময়নাতদন্তগুলো করে যেতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ সরকার করে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, কিছুটা দম নিতে হবে সরকারকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি স্প্রিন্ট করবে, নাকি ম্যারাথনে দৌড়াবে? ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আগে ধৈর্য ধরতে হবে।