সিট দখল ও হামলার সূত্রপাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে অবৈধভাবে সিট দখলকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিকুর রহমান নিয়মবহির্ভূতভাবে হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং আরও কয়েকজনকে হলে তোলেন। এর প্রতিবাদ জানানোর কারণেই গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে হলের ছাদে ডেকে নিয়ে নিজ দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহতদের অবস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতেই আতিকুর রহমান ও তার অনুসারীরা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সৌরভ হোসেন কাব্যের ওপর চড়াও হন। হামলায় সৌরভের নাক ফেটে রক্তক্ষরণ হয় এবং নিবিড়ের হাত মচকে যায়। আহত সৌরভকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পলিটিক্যাল প্রভাব বিস্তার করতেই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রশাসনের বক্তব্য বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং হলে সিট দখলের প্রতিবাদে রাতেই হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা হল ছেড়ে পালিয়ে যান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হলগুলোতে অছাত্র ও বহিরাগতদের প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে হলের প্র্যাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, "এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা চলছে। হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস ঘটনার সময় উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে না পারার অভিযোগ রয়েছে শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। তবে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ জানিয়েছেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।