• ক্যাম্পাস
  • ‘অবৈধ দখলদারদের হল ছাড়তে হবে’: জবির বেদখল হল উদ্ধারে ছাত্রদলের ১০ দিনের আলটিমেটাম

‘অবৈধ দখলদারদের হল ছাড়তে হবে’: জবির বেদখল হল উদ্ধারে ছাত্রদলের ১০ দিনের আলটিমেটাম

ক্যাম্পাস ১ মিনিট পড়া
‘অবৈধ দখলদারদের হল ছাড়তে হবে’: জবির বেদখল হল উদ্ধারে ছাত্রদলের ১০ দিনের আলটিমেটাম

আবাসন সংকট নিরসনে পুরান ঢাকায় জবি ছাত্রদলের ঝটিকা অভিযান; আব্দুর রহমান ও নজরুল হলে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হলো চূড়ান্ত সময়সীমা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (JnU) দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আবাসন সংকট নিরসনে এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। পুরান ঢাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত ‘আব্দুর রহমান হল’ ও ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল’ দুটি উদ্ধারে দখলদারদের ১০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বা ‘Ultimatum’ দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক হল উদ্ধার অভিযান ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরেজমিন অভিযান ও দেয়াল লিখন

এদিন বিকেলে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে একটি বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি রায়সাহেব বাজার হয়ে আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত আব্দুর রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বেদখলকৃত হলগুলোর বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এরপর নেতাকর্মীরা টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে যান। সেখানে হলের মূল ফটকে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং দেয়ালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হল’ ও ‘অবৈধ দখলদারদের হল ছাড়তে হবে’—এমন স্লোগান সংবলিত দেয়াল লিখন বা ‘Graffiti’র মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেন তারা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১০ দিনের সময়

অভিযান শেষে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “এই হলগুলোতে বর্তমানে কিছু পরিবার বসবাস করছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের কাছে সাত দিনের সময় চেয়েছিল, কিন্তু আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে তাদের ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে তারা নিজ উদ্যোগে সরে না গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

সংগঠনটির সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যেকোনো ধরনের অপশক্তিকে রুখে দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ছাত্রদল জানে কীভাবে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হয়। ‘Encroachment’ বা অবৈধ দখলদারিত্বের দিন শেষ।”

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও আবাসন সংকট

হল উদ্ধার অভিযানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬ থেকে ৭টি হল রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কবজায় রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মেসে বা ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন এবং বিশাল অঙ্কের ‘Living Cost’ বহন করতে হচ্ছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুনেম বলেন, “আমাদের নিজস্ব হল থাকতেও আমরা অন্যের জায়গায় উদ্বাস্তু হয়ে থাকি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের সম্পত্তি লুট করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে প্রশাসনের সহায়তায় সেসব ‘Infrastructure’ পুনরুদ্ধারের।”

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগের সরকারগুলোর উদাসীনতায় হলগুলো বেদখল হয়ে গেছে। ছাত্রদলের এই ১০ দিনের আলটিমেটাম ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে হল ফিরে পাওয়ার আশা জাগিয়েছে।

অভিযান চলাকালে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো. শাহরিয়ার হোসেনসহ জকসুর (JAKSU) ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tags: old dhaka student protest chhatra dal campus politics jnu news jnu hall housing crisis dormitory recovery student rights illegal occupation