• ব্যবসায়
  • রমজানে স্বস্তির বার্তা: বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে স্বস্তির বার্তা: বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
রমজানে স্বস্তির বার্তা: বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান ও এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ঘোষণা।

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজারে পণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ইতিবাচক বার্তা দেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রমজানের প্রস্তুতি

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বা 'Supply Chain' সচল রাখা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ করে রমজান মাসে এই দায়িত্বের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, তখন রমজানের প্রস্তুতির জন্য সময় খুব বেশি ছিল না। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে আমাদের কাছে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অনায়াসেই বাজারমূল্য বা 'Market Value' স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।"

সিলেটের উন্নয়ন: আইটি ও এআই সেন্টারের গুরুত্ব

সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রীর পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতাহারের প্রতিফলন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান বা 'Job Creation' প্রয়োজন। এই লক্ষ্য পূরণে সিলেটের আইটি পার্ককে আরও কার্যকর করা এবং একটি অত্যাধুনিক এআই (Artificial Intelligence) সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, "আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। তারা তাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের 'AI Training' দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের এই ডিজিটাল রেসে আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তবে বিশ্বদরবারে আমাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বা 'Global Competitiveness' অর্জন করতে হবে।"

বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রশাসনিক সংস্কার

সিলেটে নতুন নতুন শিল্প কারখানা ও আইটি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী স্বচ্ছ ও গতিশীল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ বা 'Investment' আকৃষ্ট করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা 'Bureaucracy' কমানো অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, "সিলেটের প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় শক্তি। প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা বা 'Policy Support' দেওয়ার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিনকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

Tags: job creation economy news commerce minister ramadan bazaar price stability food stock ai center sylhet development investment policy digital training