দেশের বাজারে আরও এক দফা বাড়ল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবশেষ সমন্বয়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ সংকটের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ক্যারেটভেদে স্বর্ণের নতুন বাজারদর বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দামের একটি।
অন্যান্য ক্যারেটের ক্ষেত্রেও দাম সমানুপাতিক হারে বেড়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী:
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।
অতিরিক্ত খরচ: ভ্যাট ও মজুরি ক্রেতাদের মনে রাখা প্রয়োজন, বাজুস নির্ধারিত এই দামের ওপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে এই মজুরি বা ‘Making Charge’ কম-বেশি হতে পারে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি গহনা কিনতে ক্রেতাকে প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে আরও প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।
রুপার বাজারেও অস্থিরতা স্বর্ণের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। ক্যাটাগরি ভেদে রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় স্থির করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৩১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সে বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ববাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে ‘Safe Haven’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া বিয়ের মরসুম চলায় স্থানীয় চাহিদাও এই মূল্যবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ এখন অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।