• জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধীর গতি, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধীর গতি, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধীর গতি, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে মাত্র চারটি ভাষা সংযোজিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম এত ধীর গতি কেন- তার প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

পাশাপাশি তিনি ইউনেস্কোর কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের জন্য বাজেট বরাদ্দ প্রত্যাশা করেছেন।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ইউনেস্কো প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

এহছানুল হক মিলন বলেন, এই ইনস্টিটিউট আমাদের সময়কালে হয়েছিল।

কিন্তু কার্যকারিতা শুরু করতে পারিনি। শুধু আমরা দালান-কোটাগুলো করে গিয়েছিলাম। বহু দিন পেরিয়ে গেল। ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, এখন ২০২৬। ১৬ বছরে ১৪টি ভাষার মধ্যে মাত্র চারটি ভাষা সংযোজিত হয়েছে। প্রোগ্রেস ভেরি স্লো। জানি না এত স্লো কেন? যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করা হয়েছিল সেটা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যে দায়িত্ব নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে, আমি আশা করব, এই দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানকে পালন করতেই হবে।

যত ত্যাগ তিতীক্ষা হোক না কেন, এটা প্রোগ্রেস আনতেই হবে কারণ আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। ইউনেস্কো কমিশনের হেড, তারা আমাদের এই বিষয়ে উৎসাহিত করেন। তবে আশা করব আগামী দিনে তারা আমাদের বাজেট দেবে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত বাজেট নেই। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা গর্বিত যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা এবং বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

আমরা এজন্য অত্যন্ত আনন্দিত এবং বাংলা ভাষা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। সেদিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। আমরা বাংলা ভাষার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছি। জানি না আগামীতে আর একটু পাবো কিনা। আমাদের অনেক সুধীজন রয়েছেন যারা বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা এড্রেস করতে রাজি নন। এটি হলো আমাদের বাংলা ভাষা। যে ভাষায় আমরা স্বপ্ন দেখি, যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যেই ভাষায় আমরা ভবিষ্যৎ চিন্তা করি। এই ভাষাকে গুরুত্ব দিতেই হবে, তার কোনো বিকল্প নেই। আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে যেন আরও আনন্দঘন অনুষ্ঠান, আরও অনেক কিছু আমরা দিতে পারি সেই আহ্বান জানিয়ে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এটা যে কারণে গঠন করা হয়েছে তার সার্থকতা অর্জন করবে এই আশা ব্যক্ত করছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, মাতৃভাষার মর্যাদা এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ২১ ফেব্রুয়ারি কেবল শোকের দিন নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রেরণার দিন।

বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভাষা মানেই পরিচয়, ভাষা মানেই ইতিহাস এবং ভাষা মানেই মর্যাদা। মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার চর্চা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও জ্ঞানবিনিময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজের ভাষার ভিত্তি শক্তিশালী করাই প্রথম শর্ত।

তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মালেক-কে, যিনি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি গ্রন্থ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে কবি আব্দুল হাই শিকদার-এর মাতৃভাষার প্রতি অবিচল অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চিন্তা ও আমাদের ভবিষ্যতের ভাষা-এ ভাষার বিকল্প নেই।

ইউনেস্কো ঢাকা বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট-এর প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা।

আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা বলেন, ১০০ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ভারতবর্ষে একটি জরিপ হয়েছিল। সেই জরিপের নাম ছিল ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’। এরপর আর এ নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। জরিপ না হলে এটা জানা কঠিন যে, এখানে কতগুলো ভাষা, উপভাষা ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা আছে। এর জন্য বড় কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করে কাজে লাগানো গেলে এই ধরনের জরিপের কাজ করা যেতে পারে। এতে করে আমাদের বহুদিনের জমে থাকা সমস্যার সমাধান হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে লিংগুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Tags: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধীর গতি প্রশ্ন তুললেন শিক্ষামন্ত্রী