বগুড়া প্রতিনিধি: চাঁদাবাজি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার প্রভাবশালী নেতা মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্র জলেশ্বরীতলা কালীবড়ি মোড় এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পুলিশের তৎপরতা গ্রেফতার মিজানুর রহমান সাগর এনসিপির বগুড়া জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মারপিট ও চাঁদাবাজির একটি মামলায় আগে থেকেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম গণমাধ্যমকে জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযানটি পরিচালনা করে।
ঘটনার নেপথ্যে: ২ লাখ টাকা চাঁদা ও অপহরণের অভিযোগ মামলার নথিপত্র এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ‘অ্যাপোলো পাওয়ার লিঙ্ক’ (Apollo Power Link) নামক একটি প্রতিষ্ঠানে লিফট সরবরাহ ও সার্ভিসের কাজকে কেন্দ্র করে। মিজানুর রহমান সাগর উক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক (Contractual) কাজ করতেন। দীর্ঘদিনের এই পেশাগত সম্পর্কের মাঝে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রুবেল প্রামাণিকের সঙ্গে সাগরের ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ দেখা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সাগর ও তাঁর ১০-১২ জন সহযোগী রুবেল প্রামাণিককে শহরের জহুরুল নগর এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। সেখানে সরকারি আজিজুল হক কলেজের পেছনের একটি নির্জন স্থানে তাঁকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সাগরের নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা রুবেলের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা (Extortion) দাবি করেন। রুবেলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত রুবেলকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (SZMC) ভর্তি করেন।
গোয়েন্দা তদন্ত ও চার্জশিট দাখিল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর ২২ সেপ্টেম্বর রুবেল প্রামাণিক আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (DB Police)। এসআই আবু জাফর দীর্ঘ তদন্ত শেষে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং গত বছরই আদালতে অভিযোগপত্র বা ‘Charge Sheet’ দাখিল করেন। এই চার্জশিটের ভিত্তিতেই সাগরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বগুড়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার এমন গ্রেফতারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এনসিপির স্থানীয় সূত্রগুলো গ্রেফতারের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে গিয়ে অপরাধের গুরুত্ব বিচার করেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।