• আন্তর্জাতিক
  • ইউক্রেনকে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিল স্লোভাকিয়া, বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনকে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিল স্লোভাকিয়া, বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি

সোমবারের মধ্যে রুশ তেলের প্রবাহ চালু না হলে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইউক্রেনকে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিল স্লোভাকিয়া, বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি

রুশ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার প্রতিবাদে ইউক্রেনকে দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে স্লোভাকিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন যদি তার ভূখণ্ড দিয়ে রাশিয়ার তেলের প্রবাহ পুনরায় শুরু না করে, তবে দেশটিতে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সোমবারের মধ্যে ড্রুঝবা পাইপলাইন চালু না হলে এই কঠোর পদক্ষেপ নেবে স্লোভাকিয়া।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যে এবার নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে স্লোভাকিয়া। রুশ তেলের সরবরাহ বন্ধ রাখা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।

আল্টিমেটাম ও বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রবার্ট ফিকো জানান, সোমবারের মধ্যে সোভিয়েত আমলের ‘ড্রুঝবা পাইপলাইন’ দিয়ে রুশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে স্লোভাকিয়া তাদের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এসইপিএস-কে (SEPS) ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেবে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে স্লোভাকিয়া তাদের বিদ্যুতের অন্যতম বড় যোগানদাতা। গত মাসে ইউক্রেনের আমদানিকৃত বিদ্যুতের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করেছে স্লোভাকিয়া।

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রবার্ট ফিকো অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্লোভাকিয়ার প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈরী আচরণ করছেন। ফিকো উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের শুরুতে গ্যাস ট্রানজিট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন রুশ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে স্লোভাকিয়া বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি জেলেনস্কির এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেন।

পাইপলাইন সংকটের প্রেক্ষাপট গত জানুয়ারির শেষ দিকে ড্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে রুশ তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনের দাবি ছিল, রুশ ড্রোন হামলায় পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি এই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ। দুই দেশই জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে তেলের প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় কিয়েভের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে তারা।

ইউরোপীয় জোটে নতুন ফাটল বিশ্লেষকদের মতে, স্লোভাকিয়ার এই কড়া অবস্থান যুদ্ধকালীন ইউরোপীয় দেশগুলোর ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। স্লোভাকিয়া ইতিমধ্যে ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত বড় অংকের সামরিক ঋণে জড়ানোর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী ফিকোর এই আল্টিমেটামের পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। সোমবার সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Tags: energy crisis international relations russia ukraine slovakia robert fico oil pipeline electricity supply