পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের প্রচলিত আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধান লঙ্ঘন করে পাহাড়ে যেসব রিসোর্ট (Resort) ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ স্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আইন লঙ্ঘন করে যত্রতত্র রিসোর্ট তৈরি করার ফলে পাহাড়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা ইতিমধ্যে এই ধরনের অবৈধ স্থাপনাগুলো খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছি। যারা পাহাড় কেটে বা বন উজাড় করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরিবেশ আইন (Environment Law) লঙ্ঘনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রশাসনিক সংস্কার ও জনবল নিয়োগ
মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্ম’ বা প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া (Manpower Recruitment) শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অযথা খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করতে কর্মকর্তাদের আরও সজাগ থাকতে হবে। কস্ট অপটিমাইজেশন (Cost Optimization) বা ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে চাই।”
ফ্যামিলি কার্ড ও জনকল্যাণ
পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ (Family Card) প্রকল্প নিয়ে নতুন তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বান্দরবানের লামা এলাকা থেকে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার
রাঙামাটির ‘মন্ত্রীপাড়া’ থেকে উঠে আসা এই মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাহাড়ের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশের নামে আদিবাসীদের ভূমি দখল বা প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না—এ বিষয়ে মন্ত্রীর এই ‘কড়া বার্তা’ স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চিহ্নিত অবৈধ রিসোর্টগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনার মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হতে পারে। পাহাড়ে টেকসই পর্যটন বা ‘Sustainable Tourism’ নিশ্চিত করতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।