দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ সংকটের অজুহাতে মাত্র দুই দফায় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই চড়া দাম।
টানা দুই দফার ধাক্কায় বিপর্যস্ত বাজার সবশেষ সোমবার সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ভরিতে বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারিও বাড়ানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত সাড়ে ৫ হাজার টাকা খসবে এক ভরি স্বর্ণ কিনতে।
নতুন দরে ভরি কত? বাজুসের নতুন চার্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্যান্য ক্যাটাগরির দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে:
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
উল্লেখ্য যে, স্বর্ণের এই মূল্যের সঙ্গে সরকারকে বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) প্রদান করতে হবে। এছাড়া গহনা তৈরির জন্য বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (Wages) যুক্ত হবে, যা গহনার ডিজাইন ও মানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
ঘন ঘন দর পরিবর্তন: অস্থিরতায় জুয়েলারি খাত পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র ১২ বার। গত ২০২৫ সালেও বাজার ছিল অস্থির; বছরজুড়ে ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের বিপরীতে ৬৪ বারই বেড়েছিল আভিজাত্যের এই ধাতুর দাম। বারবার দাম পরিবর্তনের ফলে ক্রেতা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক বিক্রয় ও মার্কেট ভ্যালুর (Market Value) ওপর।
রুপার বাজারে স্থিতাবস্থা স্বর্ণের দামে দফায় দফায় আগুন লাগলেও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে রুপার বাজার। বর্তমানে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় স্থির রয়েছে। রুপার বাজারে চলতি বছর ১৮ বার সমন্বয় করা হলেও বর্তমানে তা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে। সামনের দিনগুলোতে বিয়ের মৌসুম চলায় এই মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।