• আন্তর্জাতিক
  • যুদ্ধ বনাম কূটনীতি: চূড়ান্ত সংঘাতের আশঙ্কার মাঝেই জেনেভায় ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধ বনাম কূটনীতি: চূড়ান্ত সংঘাতের আশঙ্কার মাঝেই জেনেভায় ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুদ্ধ বনাম কূটনীতি: চূড়ান্ত সংঘাতের আশঙ্কার মাঝেই জেনেভায় ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডে হাই-প্রোফাইল আলোচনায় বসছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ; পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র আশায় বুক বাঁধছে বিশ্ব।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক শক্তি প্রদর্শনী চরমে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় নতুন আশা এই আলোচনার খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওমান দীর্ঘকাল ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও যুদ্ধের মেঘ এমন এক সময়ে এই বৈঠকের ঘোষণা এল যখন পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ‘Military Presence’ বা সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করছে। মার্কিন রণতরী ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ‘Escalation’ বা উত্তেজনা কমাতেই মূলত জেনেভাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান বৈঠকের চূড়ান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে (CBS News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘Monitoring System’ বা নজরদারি ব্যবস্থার অধীনে যেতে প্রস্তুত। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থেকে তারা এক চুলও নড়বে না।

আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানান, "নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়। আমাদের বিজ্ঞানীরা কঠোর শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে এই প্রযুক্তি অর্জন করেছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ‘Sanctions’ (নিষেধাজ্ঞা), বিজ্ঞানীদের ওপর গুপ্তহত্যা এবং ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও ইরান তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি।

নিউক্লিয়ার ডিল ও আন্তর্জাতিক আইন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি (NPT) এর সদস্য হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন তাদের বৈধ অধিকার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রাই হবে বৃহস্পতিবারের আলোচনার সবচেয়ে ‘Sensitive’ বা সংবেদনশীল বিষয়।

বিশ্ব রাজনীতিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। যদি জেনেভায় কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ যেমন কমবে, তেমনি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে কতটুকু সাফল্য আসবে, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল।

Tags: middle east international relations global security nuclear program us-iran talks uranium enrichment geneva meeting military escalation oman mediation sanctions news