চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রূপকথার গল্প লিখছে জিম্বাবুয়ে। মাঠের পারফরম্যান্সে বড় বড় পরাশক্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে অপরাজিত তকমা নিয়ে ‘সুপার এইট’ (Super Eight) নিশ্চিত করেছে তারা। গ্রুপ ‘বি’-তে অস্ট্রেলিয়া এবং সহ-স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মতো ক্রিকেট জায়ান্টদের হারিয়ে জিম্বাবুয়ে এখন টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স। কিন্তু মাঠের খেলোয়াড়রা যখন সাফল্যের শিখরে, গ্যালারিতে তখন বাজছে বিষাদের সুর। কারণ, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সুপার এইটের ম্যাচগুলো দেখার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই জিম্বাবুয়ের একনিষ্ঠ সমর্থকদের।
শ্রীলঙ্কার গ্যালারি কাঁপানো ভক্তদের ভারতে আসার অর্থ নেই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের ‘ব্রাস ব্যান্ড’ (Brass Band) ও ‘ক্যাসেল কর্নার’ ছিল গ্যালারির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। তাদের বাদ্যযন্ত্রের সুর আর অবিরাম সমর্থন জিম্বাবুয়ে দলকে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তবে দলটি যে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন (Group Champion) হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে, তা খোদ কট্টর সমর্থকরাও হয়তো আন্দাজ করতে পারেননি। ফলে মুম্বাই, চেন্নাই বা দিল্লির মতো ব্যয়বহুল ভেন্যুগুলোতে গিয়ে দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো ‘বাজেট’ বা আর্থিক প্রস্তুতি তাদের ছিল না। এই মুহূর্তে ভারত সফর করার মতো সংগতি হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ ভক্তরা।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন বর্তমান পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিখ্যাত সমর্থক গোষ্ঠী ‘ব্রাস ব্যান্ড’-এর মুখপাত্র পল মুঙ্গোফা দেশটির বড় বড় কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার (Financial Assistance) অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি আমাদের দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসুন, ঠিক যেমনটা আপনারা ফুটবলের ক্ষেত্রে করেন। আমাদের ব্রাস ব্যান্ড এবং ক্যাসেল কর্নার গ্যালারিতে এক অভাবনীয় আবহ তৈরি করতে পারে। আমাদের সুযোগ দিন, যাতে আমরা ভারতের গ্যালারিতে আওয়াজ তুলে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পারি।”
জিম্বাবুয়ের প্রধান সমর্থক প্রতিনিধি মালভিন কোয়ারাম্বা জানান, ভক্তরা এতদিন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করেই দলের পাশে ছিলেন। তাদের কাছে ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, বরং একটি আবেগ। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি ভেন্যুতে গিয়েছি, দলের জয়ে আনন্দ করেছি, আবার পরাজয়ে কেঁদেছি। ক্রিকেটাররা এখন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো।”
অধিনায়ক সিকান্দার রাজার আবেগঘন বার্তা ভক্তদের এই ত্যাগের কথা অজানা নয় জিম্বাবুয়ে দলের কাপ্তান সিকান্দার রাজার কাছে। সমর্থকদের আর্থিক সংকটের কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, “তারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে আমাদের সমর্থন দিতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন। আমরা তাদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আবেগের জন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”
সামনে কঠিন লড়াই সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের প্রথম পরীক্ষা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে চায়। তবে গ্যালারিতে চিরচেনা সেই ‘ব্রাস ব্যান্ড’-এর সুর না থাকলে ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তিতে কিছুটা ঘাটতি পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ের কর্পোরেট সেক্টর বা বিত্তশালীরা শেষ মুহূর্তে ভক্তদের স্বপ্নের সারথি হয়ে ভারতের বিমানে ওঠার সুযোগ করে দেন কি না।