বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (BCL) নতুন মৌসুমের শুরুটা রাজকীয় ভঙ্গিতে করল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন নর্থ জোন। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ইস্ট জোনকে ৫৪ রানে হারিয়েছে তারা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলীর বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং তরুণ লেগ স্পিনার (Leg Spinner) রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ওপর ভর করে এই দাপুটে জয় তুলে নেয় নর্থ জোন।
আকবরের সেঞ্চুরি ও টপ অর্ডারের ফিফটিতে রানের পাহাড়
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হাবিবুর রহমান সোহানকে হারালেও নর্থ জোনের রানের গতি সচল রাখেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তানজিদ হাসান তামিম। বিশেষ করে তামিম ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে; মাত্র ৩৭ বলে ৫৪ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও মিডল অর্ডারে (Middle Order) হাল ধরেন শান্ত ও আকবর আলী।
অধিনায়ক শান্ত ৮৭ বলে ৬৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন আকবর আলী। মাত্র ৮১ বলে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তার ১১১ রানের ইনিংসটি নর্থ জোনকে ৩৩৫ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেয়। ইস্ট জোনের পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ ৫২ রানে ৪ উইকেট শিকার করলেও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ছিলেন বেশ ব্যয়বহুল, তিনি ১০ ওভারে খরচ করেন ৯৮ রান।
রিশাদের স্পিন-ম্যাজিক ও ইস্ট জোনের পতন
৩৩৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ইস্ট জোন। ওপেনার জাকির হাসান দ্রুত ফিরলেও পারভেজ হোসেন ইমন এবং অধিনায়ক ইয়াসির আলী রাব্বি ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট (Turning Point) হয়ে আসেন রিশাদ হোসেন। রিশাদের লেগ স্পিন ও গুগলি সামলাতে হিমশিম খান ইস্ট জোনের ব্যাটাররা।
ইয়াসির রাব্বিকে ৪২ রানে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন রিশাদ। এরপর একই ওভারে শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও সাইফউদ্দিনকে আউট করে ইস্ট জোনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। একদিকে অভিজ্ঞ মুমিনুল হক লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্ত থেকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। মুমিনুলের ৮২ বলে ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ইস্ট জোন ২৮১ রানে অল-আউট হলে ৫৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় নর্থ জোনের।
বিসিএলে নতুন শক্তির উত্থান
নর্থ জোনের এই জয়ে বোলিং ইউনিটের দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে। রিশাদ হোসেন ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানাও শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের (Domestic Cricket) এই টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের তারকাদের এমন ফর্ম আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।