ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) আবারও ফিরে এলো বর্ণবাদের (Racism) কালো ছায়া। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি দেওয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছেন বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উয়েফা (UEFA) এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
মাঠের উত্তেজনা ও বর্ণবাদী আচরণ
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ (Play-off) প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। উত্তেজনায় ঠাসা ওই ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়রের করা একমাত্র গোলে জয় পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, খেলার এক পর্যায়ে নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিউসকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ বর্ণবাদী মন্তব্য করেন বেনফিকার আর্জেন্টাইন তারকা প্রেস্টিয়ান্নি।
বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন ও পরবর্তীতে উষ্মা প্রকাশ করেন ভিনিসিউস। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের নতুন মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও জানান, তিনি সতীর্থের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রেস্টিয়ান্নির মুখ থেকে সরাসরি সেই বিতর্কিত মন্তব্য শুনেছেন।
উয়েফার কঠোর তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে উয়েফার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। প্রাথমিক তদন্তের পর উয়েফা জানায়, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি সংস্থার বৈষম্যমূলক আচরণ (Discriminatory Behavior) সংক্রান্ত শৃঙ্খলার নিয়ম গুরুতরভাবে ভঙ্গ করেছেন। এই অপরাধের প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে তাকে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উয়েফার কঠোর আইন অনুযায়ী, বর্ণবাদের অভিযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার (Match Ban) মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে প্রেস্টিয়ান্নির ক্যারিয়ার এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।
বেনফিকার অবস্থান ও প্রেস্টিয়ান্নির আত্মপক্ষ সমর্থন
নিষেধাজ্ঞার খবর আসার পরপরই পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা তাদের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবটি প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, এই আর্জেন্টাইন তরুণ তারকাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।
একটি বিবৃতিতে প্রেস্টিয়ান্নি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভিনিসিউসকে লক্ষ্য করে আমি কোনো বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি। দুর্ভাগ্যবশত সে যা শুনেছে বলে ভাবছে, তা সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি। আমি ফুটবলীয় আদর্শ মেনেই খেলি।”
ফুটবলে বর্ণবাদ ও জিরো টলারেন্স নীতি
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদ একটি বড় ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভিনিসিউস জুনিয়র একাধিকবার লা লিগা ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে বর্ণবাদের শিকার হয়ে সরব হয়েছেন। উয়েফা ও ফিফার 'জিরো টলারেন্স' নীতির অংশ হিসেবেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত তদন্ত শেষে প্রেস্টিয়ান্নির ভাগ্যে দীর্ঘমেয়াদী কোনো নিষেধাজ্ঞা জোটে কি না।