• ব্যবসায়
  • ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় ফিরেছেন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন

ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় ফিরেছেন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় ফিরেছেন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন

অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন শেষে এখন পুরোদমে নিজের চেনা ভুবনে ফিরেছেন শেখ বশির উদ্দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি শতভাগ মনোনিবেশ করেছেন নিজের হাতে গড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘আকিজ বশির গ্রুপ’ এবং পরিবারের প্রতি।

পুরোদস্তুর ব্যবসায়িক ব্যস্ততা মন্ত্রণালয়ের ফাইল আর নীতিনির্ধারণী বৈঠকের ব্যস্ততা শেষে শেখ বশির উদ্দিনের বর্তমান দিনলিপি আবর্তিত হচ্ছে তার করপোরেট অফিসকে ঘিরে।

আকিজ বশির গ্রুপের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “চেয়ারম্যান স্যার এখন নিয়মিত অফিস করছেন। তিনি ব্যবসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।” প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি পারিবারিক সময়কেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার পর এখন তিনি স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন।

অর্থনীতির হাল ধরা সেই দিনগুলো ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দেশের টালমাটাল অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন শেখ বশির উদ্দিন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, টিসিবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজীকরণে তিনি স্বল্প সময়েই মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিমালা সহজ করা এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি প্রশংসিত হন।

বিদায়বেলায় ঐতিহাসিক মাইলফলক দায়িত্ব ছাড়ার আগমুহূর্তে দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক অধ্যায় রচনা করে গেছেন শেখ বশির উদ্দিন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সাবেক এই উপদেষ্টা একে বাংলাদেশের জন্য বড় লাভের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, চুক্তিতে ‘এক্সিট ক্লজ’ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য নমনীয়তা বজায় রাখবে। এছাড়া বোয়িং বিমান ও জ্বালানি ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেকড় থেকে শিখরে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে শেখ বশির উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর অভিজ্ঞতায় ২০২৩ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘আকিজ বশির গ্রুপ’। সিরামিকস, টেবিলওয়্যার, জুট, পার্টিকেল বোর্ডসহ ১৮টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত তার এই গ্রুপ। যার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ২৬ হাজার মানুষের।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব শেষে এখন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতেই কাটছে শেখ বশির উদ্দিনের প্রতিটি দিন। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই এখন তার মূল লক্ষ্য।

Tags: উপদেষ্টা ব্যস্ততায় ব্যবসায়িক শেখ বশির উদ্দিন