টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দাপট দেখালেও সুপার এইটের (Super Eight) প্রথম ম্যাচেই বড়সড় হোঁচট খেল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার গতির ঝড়ে আহমেদাবাদে কুপোকাত হয়েছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল। প্রোটিয়াদের কাছে ৭৬ রানের এই বিশাল ব্যবধানে হার ভারতের সেমিফাইনালের পথকে যেমন কণ্টকাকীর্ণ করেছে, তেমনি উসকে দিয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে ভারতের ‘ব্যাটিং অর্ডার’ এবং রণকৌশল নিয়ে এবার সরব হয়েছেন প্রাক্তন অফ-স্পিনার হরভজন সিং।
প্রোটিয়াদের দাপট ও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের বিপর্যয় আহমেদাবাদের পিচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল প্রোটিয়ারা, তখন ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন অভিজ্ঞ ডেভিড মিলার। তাঁর ৩৫ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংসের পাশাপাশি ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ২৯ বলে ৪৫ এবং শেষ দিকে ত্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ক্যামিও ভারতকে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। মিডল অর্ডারে (Middle Order) শিভাম দুবের ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া।
ব্যাটিং অর্ডারে অদলবদলের পরামর্শ ভারতের এই ব্যাটিং ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হরভজন সিং। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারের পজিশন নির্ধারণে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। হরভজন বলেন, "আমার মনে হয়, তিলক বর্মার জায়গায় তিন নম্বরে সূর্যকুমার যাদবের নামা উচিত ছিল। যখন দলের সেরা ব্যাটার ছন্দে থাকেন, তখন তাঁকে উপরে খেলানোই শ্রেয়। এছাড়া পাঁচ নম্বরে ওয়াশিংটন সুন্দরের বদলে শিভাম দুবেকে পাঠানো প্রয়োজন ছিল।"
ভাজ্জির মতে ‘ভুল’ কৌশল ও সেমিফাইনালের সমীকরণ শিভাম দুবের প্রশংসা করে ভাজ্জি আরও যোগ করেন, "দুবের মতো একজন পাওয়ার হিটার (Power Hitter) যখন ফর্মে থাকে, তখন তাঁকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখা ভুল। ওয়াশিংটন সুন্দর কেবলই দলে ফিরেছেন, তাঁর ওপর পারফর্ম করার চাপ দুবের চেয়ে অনেক বেশি। যারা ইন-ফর্ম ব্যাটার, তাঁদের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।"
হরভজনের মতে, ভারতের ব্যাটাররা পরিস্থিতির দাবি না বুঝে কেবল আক্রমণাত্মক শট খেলার চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। সূর্যকুমার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাকিদের মধ্যে সেই তাড়না লক্ষ্য করা যায়নি।
সুপার এইটে একটি ম্যাচ হারায় ভারত এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। সেমিফাইনালের রেসে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। সেই ম্যাচে জয় না পেলে বিশ্বকাপের শিরোপা স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে টিম ইন্ডিয়ার জন্য।