বাতিল করা হয়েছে কয়েক হাজার ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (এনডব্লিউএস) তথ্য অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের কিছু এলাকায় প্রায় ৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে তুষার জমেছে ১৯ ইঞ্চিরও বেশি।
নিউইয়র্কের একটি সরকারি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, চলাচলের পরিস্থিতি ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে পড়েছে। পূর্ব উপকূলের প্রায় ৬ লাখের বেশি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এর মধ্যে নিউজার্সি ও ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং কানাডার মেরিটাইম অঞ্চলে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দিনভর তুষারপাতের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালের মধ্যে উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় কিছু এলাকায় মোট ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষার জমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনে সবচেয়ে ছোট অঙ্গরাজ্য রোড আইল্যান্ড এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, এটি রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ তুষারঝড়। কিছু এলাকায় ৩৬ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে, যা ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ২৮.৬ ইঞ্চির আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ ক্যান্ডিস হারেনসেসিন বলেন, এটি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা নিজেরাও বিস্মিত।
রোড আইল্যান্ড এবং পার্শ্ববর্তী কানেক্টিকাটে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি একই ধরনের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ম্যাসাচুসেটসে অত্যাবশ্যক নয় এমন সব ধরনের ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করছি এবং মহাসড়কে গতিসীমা কমিয়ে ৪০ মাইল নির্ধারণ করছি। আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে কেউ কোথাও আটকে গেলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হবে। তাই সবাইকে রাস্তায় না বের হওয়ার অনুরোধ করছি। তুষারঝড়ের কারণে ম্যাসাচুসেটসে প্রায় তিন লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশ গ্রাহক কেপ কড অঞ্চলের। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সোমবার দুপুরে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের এই নগরী কার্যত স্থবির ছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, প্রবেশ বা বাহিরমুখী বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭০৬ ছাড়িয়ে যায়।
সাইটটির তথ্য বলছে, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে ৯৮ শতাংশ ফ্লাইট এবং নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর জেএফকে থেকে ৯১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যেখানে দৈনিক সাধারণত তিন লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী চলাচল করে।
এই দুই জায়গাতেই ১৯ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত হয়েছে।
বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার তাদের ৯২ শতাংশ বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করেছে; নিউজার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরও ৯২ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে, আর ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৮০ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়েছে।
অঞ্চলটি মঙ্গলবারও তুষারের প্রভাব সামাল দেবে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা বাহিরমুখী আরও দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বোস্টন ও নিউইয়র্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।