মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে রংপুর অফিসে বদলি করা হয়েছে।
গভর্নরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করার পর গভর্নর কাউন্সিলকে ডেকে পাঠান। অথচ এর আগে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দাবি নিয়ে একাধিকবার সাক্ষাতের আবেদন জানানো হলেও গভর্নর সময় দেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই বৈঠকে গভর্নর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্সিল স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশ করে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে একদিনের জন্য হলেও পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী বোর্ড সভা নিয়ে বিতর্ক
মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একদিনের নোটিশে বোর্ড সভা আহ্বান করেন গভর্নর। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই সভার এজেন্ডার দ্বিতীয় নম্বরে ছিল ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়টি। মোট আটটি এজেন্ডার মধ্যে বাকি সাতটি জরুরি না হওয়া সত্ত্বেও তড়িঘড়ি সভা ডাকা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ প্রেক্ষিতে কাউন্সিল জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরের একক সিদ্ধান্তের সমালোচনা এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স না দেওয়ার আহ্বান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
শোকজ ও বদলি
সংবাদ সম্মেলনের পর গভর্নরের নির্দেশে কাউন্সিলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও একজন পরিচালককে শোকজ করা হয় এবং ১০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমার একদিন পার হতেই ওই তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গাড়ি ক্রয় ও অন্যান্য অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে গভর্নরের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ তোলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল টয়োটা আলফার্ড গাড়ি কেনা;
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সিলিং (১.৬৯ কোটি টাকা) অতিক্রমের অভিযোগ;
পূর্বে সরকারি গাড়ি কেনার ১০ বছর পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও নতুন গাড়ি ক্রয়;
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মেডিক্যাল সেন্টারের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ;
সরকারের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানে উদ্যোগ নেওয়া।
এসব পদক্ষেপকে তিনি ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন— কাউন্সিল যদি এসব বিষয়ে প্রতিবাদ না করতো, তাহলে কি তা সঠিক হতো?
ব্যাংকিং খাতের সংকট প্রসঙ্গ
পোস্টে ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক সংকট, আমানতকারীদের দুর্ভোগ এবং কথিত ‘ব্যাংক লুটপাট’-এর দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ কেন ব্যাংকিং অনিয়মের দায় বহন করবে— এ প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
পোস্টের শেষাংশে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা আমাদের জন্য ধর্মপালনের সমতুল্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব। স্বৈরাচার নিপাত যাক, বাংলাদেশ ব্যাংক মুক্তি পাক।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।