ইউরোপীয় ফুটবলে রূপকথার গল্পগুলো সাধারণত এভাবেই লেখা হয়। একদিকে ইতালিয়ান জায়ান্ট এবং গত আসরের রানার্সআপ ইন্টার মিলান, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (Champions League) খেলতে আসা নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিমট। প্লে-অফের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ইন্টারকে হারিয়ে যারা চমক দিয়েছিল, ফিরতি লেগে খোদ সান সিরোর গুইসেপি মেজা স্টেডিয়ামে ইন্টারকে বিদায় করে তারা ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল। ২-১ গোলে দ্বিতীয় লেগ জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ অ্যাগ্রিগেটে (Aggregate) শেষ ১৬-তে নাম লেখাল নরওয়ের এই প্রতিনিধিরা।
সান সিরোতে স্তব্ধ ইন্টার মিলান
নিজেদের দুর্গ সান সিরোতে ফিরতি লেগে ইন্টার ঘুরে দাঁড়াবে—এমনটাই ছিল ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। প্রথমার্ধে বোডো/গ্লিমটের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি ইন্টারের ফরোয়ার্ডরা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেই শুরু হয় আসল নাটক।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে জেন্স পেটার হাউজের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় অতিথিরা। এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৭২তম মিনিটে হাকন এভজেনের লক্ষ্যভেদে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। গ্যালারিভর্তি ইন্টার সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে বোডো/গ্লিমট তখন ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ৭৬তম মিনিটে ইন্টারের বাস্তোনি এক গোল শোধ দিলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, পরাজয়ের গ্লানি মুছতে পারেনি।
নবাগত দলের ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হওয়া বোডো/গ্লিমট এখন আর কোনো অঘটন নয়, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে ম্যানচেস্টার সিটি এবং অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে নকআউট পর্বে (Knockout Stage) জায়গা করে নিয়েছিল তারা। এবার ইন্টার মিলানকে বিদায় করে দিয়ে তারা প্রমাণ করল, যেকোনো বড় প্রতিপক্ষের জন্য তারা এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক।
অ্যাতলেটিকোর গোলবন্যা ও সোরলোথের হ্যাটট্রিক
এদিকে একই রাতে অন্য এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। প্রথম লেগ ৩-৩ গোলে ড্র থাকায় এই ম্যাচটি ছিল কার্যত অলিখিত ফাইনাল। ম্যাচে অ্যাতলেটিকোর স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সোরলোথ বিধ্বংসী রূপে হাজির হন এবং দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক (Hat-trick) পূর্ণ করেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ ব্যবধানে জিতে শেষ ১৬ নিশ্চিত করল ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা।
নিউক্যাসল ও লেভারকুসেনের রাজকীয় জয়
ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডও তাদের দাপট বজায় রেখেছে। কারাবাগকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা। প্রথম লেগের ৬-১ গোলের বিশাল জয়ের পর দুই লেগ মিলিয়ে ৯-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ডে পা রাখল ‘দ্য ম্যাগপাইস’রা।
অন্যদিকে, জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসের সাথে গোলশূন্য ড্র করলেও প্রথম লেগের ২-০ গোলের জয় তাদের শেষ ১৬-তে পৌঁছে দিয়েছে। চাবির আলোনসোর অধীনে লেভারকুসেনের রক্ষণভাগ আবারও তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসর এখন প্রবেশ করছে চূড়ান্ত উত্তেজনার পর্বে। বড় দলগুলোর বিদায়ে এবং নতুন শক্তিদের উত্থানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবার এক নতুন সমীকরণের দিকে মোড় নিল।