• রাজনীতি
  • সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জামায়াতের

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জামায়াতের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জামায়াতের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে ‘ভিত্তহীন’ দাবি; দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যোগ্যদেরই সংসদ সদস্য করার নিশ্চয়তা দিল সংগঠনটি।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য সংসদ সদস্য মনোনয়ন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত তথ্যগুলোকে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে।

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে, দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়রাই সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাচ্ছেন। জামায়াত এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে একে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তহীন’ ও কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছে।

স্বজনপ্রীতি ও গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এখানে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিষয়টি সংগঠনের নির্ধারিত গঠনতন্ত্র (Constitution) অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়। অ্যাডভোকেট জুবায়ের জোর দিয়ে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি (Nepotism) বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো সুযোগ নেই। সংগঠনের সকল প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

মহিলা বিভাগের ভূমিকা ও মনোনয়ন পদ্ধতি

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ। এটি দলের ‘মহিলা বিভাগ’-এর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা ও পরামর্শক্রমে সম্পন্ন করা হবে। যোগ্য, দক্ষ এবং দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নারীরাই এই তালিকায় স্থান পাবেন বলে সংগঠনটি আশ্বস্ত করেছে। কোনো বিশেষ ব্যক্তির পরিচয় বা আত্মীয়তার ভিত্তিতে সংসদ সদস্য হওয়ার পথ জামায়াতে উন্মুক্ত নয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান

বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডায় (Propaganda) বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যারা এই ধরনের অসত্য তথ্য শেয়ার বা প্রচার করছেন, তাদের এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার বিষয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় নির্বাচন ও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ও বাইরে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতের এই স্পষ্টীকরণ রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Tags: jamaat islami