দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া সাক্ষাৎকার ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ধরুন ও বিষয়বস্তু নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজপথের সক্রিয় তরুণ নেতারাও। এই ইস্যুতে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বয়ান (Narrative) তৈরি করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার ও আসিফ মাহমুদের পর্যবেক্ষণ
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত এক সেহরি মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আসিফ মাহমুদ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে। শেখ হাসিনা কখনই এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাননি যার ব্যক্তিত্ব তাঁর চেয়ে বেশি শক্তিশালী বা পাওয়ারফুল (Powerful) হয়। তিনি এমন একজনকে ওই পদে বসিয়েছিলেন যিনি তাঁর আজ্ঞাবহ থাকবেন।”
আসিফ মাহমুদের মতে, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক ধরনের সুপ্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি মনে করেন, এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন ছিল যাতে মানুষ বুঝতে পারে অতীতে কারা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে এবং কোন রাজনৈতিক বাস্তবতায় (Political Reality) রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। সুতরাং কোনো তথ্য বা ঘটনার ফ্রেমিং (Framing) করে জনগণকে ভোলানো সম্ভব নয়।”
স্থানীয় নির্বাচন ও এনসিপির রণকৌশল
সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ তাঁর দল এনসিপি-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিশেষ করে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার জন্য তাঁরা সাংগঠনিকভাবে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ (Roadmap) দাবি করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপি ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে কড়া সমালোচনা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে নিজেদের সাথেই এক প্রকার প্রতারণা (Self-betrayal) করেছে। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ (July Sanad) বাস্তবায়নে এনসিপি রাজপথ এবং সংসদ উভয় জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল, তা রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পুনরায় স্পষ্ট হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ এবং তাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়। তবে আসিফ মাহমুদের মতো তরুণ নেতৃত্বরা যে বর্তমান রাজনৈতিক সেটআপে কোনো আপস করতে রাজি নন, তা তাঁর বক্তব্যে আবারও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।