দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি চৌকস দলের ঝটিকা অভিযানে এবার ধরা পড়লেন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মো. আল সাঈদ এবং তাঁর কার্যালয়ের কার্য সহকারী আবু নাছের। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের সময় তাঁদের হাতেনাতে (Red-handed) আটক করা হয়। এই ঘটনাটি ফেনী ও সোনাগাজীর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের পাহাড় ও দুদকের সুপরিকল্পিত অভিযান
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সাব-কন্ট্রাক্টের (Sub-contract) মাধ্যমে সম্পন্ন করেছিলেন ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানা। কাজ শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী বিল (Bill) উত্তোলনের জন্য তিনি পিআইও কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল সাঈদ এই বিল পরিশোধের শর্ত হিসেবে মোট ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে বিল আটকে রাখা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
বিপদগ্রস্ত ওই ঠিকাদার গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি দুদকের শরণাপন্ন হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম কিস্তির (Installment) ১ লাখ টাকা লেনদেনের সময় ফাঁদ পাতে দুদক।
হাতেনাতে উদ্ধার এক লাখ টাকার নতুন বান্ডেল
বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিকাদার রানা ১ লাখ টাকা নিয়ে পিআইও-র কার্যালয়ে যান। যখনই তিনি ঘুষের টাকা আল সাঈদ ও তাঁর সহকারী আবু নাছেরের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন, তখনই ওঁত পেতে থাকা দুদকের ৮ সদস্যের একটি শক্তিশালী টিম সেখানে হানা দেয়। এ সময় পিআইও-র ড্রয়ার ও ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে এক হাজার টাকার নোটের একটি আস্ত নতুন বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানটির নেতৃত্ব দেন দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী, জাহেদ আলম এবং কোর্ট পরিদর্শক মো. ইদ্রিসসহ অন্য কর্মকর্তারা।
ভোক্তভোগী ঠিকাদারের বিস্ফোরক দাবি
গ্রেফতারের পর ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানা সাংবাদিকদের জানান, "এই কর্মকর্তা এর আগেও বিভিন্ন অযুহাতে আমার কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এবার বড় অঙ্কের বিল আটকে রেখে ১২ লাখ টাকা দাবি করলে আমি নিরুপায় হয়ে দুদকের সাহায্য নিই। আমি চাই সরকারি দপ্তরে এই সিন্ডিকেট বন্ধ হোক।"
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) রিগান চাকমা জানান, তিনি ব্যক্তিগত ছুটিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বলে ঘটনার সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটককৃত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।