• দেশজুড়ে
  • রক্তমাখা জুতা ও তামাকক্ষেতে মাটিচাপা মরদেহ: রংপুরে নিখোঁজ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীর করুণ পরিণতি

রক্তমাখা জুতা ও তামাকক্ষেতে মাটিচাপা মরদেহ: রংপুরে নিখোঁজ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীর করুণ পরিণতি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রক্তমাখা জুতা ও তামাকক্ষেতে মাটিচাপা মরদেহ: রংপুরে নিখোঁজ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীর করুণ পরিণতি

তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর তারাগঞ্জে মিলল মঞ্জুরুল হোসেনের লাশ; ছিনতাই না কি পূর্বশত্রুতা—রহস্য উদঘাটনে নেমেছে পুলিশ।

রংপুরের তারাগঞ্জে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত নৃশংসভাবে মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ মঞ্জুরুল হোসেনের (৪৫) সন্ধান মিলল এক তামাকক্ষেতে, যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জমাট বাঁধা রক্ত ও এক জোড়া জুতা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুর্শা ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় কয়েক শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিখোঁজ থেকে লাশের সন্ধান: যেভাবে ঘনীভূত হলো রহস্য

নিহত মঞ্জুরুল হোসেন কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় পল্লী বিদ্যুতের (Palli Bidyut) একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সব আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং পরিচিত স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার মোড় ঘোরে বুধবার বিকেলে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ঝাকুয়াপাড়া মাজার সংলগ্ন একটি তামাকক্ষেতে অস্বাভাবিক রক্তের দাগ এবং এক জোড়া জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জুতা জোড়া মঞ্জুরুলের বলে শনাক্ত করেন। এরপরই এলাকায় শুরু হয় মরদেহের ব্যাপক তল্লাশি।

মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হলো নিথর দেহ

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালেই গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ জন মানুষ কয়েকটি ভ্যানে করে ওই এলাকায় পৌঁছান। দুপুর নাগাদ তামাকক্ষেতের এক কোণে মাটির একটি অংশ আলগা দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। সেখানে মাটি সরাতেই বেরিয়ে আসে মঞ্জুরুল হোসেনের নিথর দেহ। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মঞ্জুরুলের ভাতিজা আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর চাচার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (Motorcycle) এবং মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অথবা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

পরিবারে শোকের ছায়া ও পুলিশের ভাষ্য

নিহত মঞ্জুরুল হোসেনের তিন সন্তান ও স্ত্রী রয়েছেন। উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত মার্ডার (Murder) কেস হতে পারে।" তিনি আরও জানান, খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেল ও মোবাইল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত (Investigation) জোরদার করা হয়েছে।

রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় জনমনে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জনবহুল এলাকায় এভাবে মাটিচাপা দিয়ে মরদেহ গুম করার চেষ্টাকে অত্যন্ত দুঃসাহসিক অপরাধ হিসেবে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Tags: police investigation palli bidyut crime scene missing person rangpur murder body recovered taraganj news tobacco field