টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের (Digital Platform) বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। এই সিরিজের প্রতিটি চরিত্রই এখন দর্শকদের কাছে ঘরের মানুষের মতো। এবারের রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি নিয়ে এসেছেন বিশেষ কনটেন্ট ‘ব্যাচেলর রমজান ভাইব’। তবে এটি কেবল নিছক হাসির খোরাক নয়, বরং হাসির আড়ালে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক শক্তিশালী Social Message বা সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বিলাসিতা নয়, সুবিধাবঞ্চিতদের সাথে উৎসবের আনন্দ একটি মুঠোফোন ব্র্যান্ডের প্রমোশনাল কনটেন্ট (Promotional Content) হিসেবে নির্মিত হলেও এর Narrative বা গল্প বলার ধরণ অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। ‘ব্যাচেলর রমজান ভাইব’-এর গল্পে দেখা যায় কাবিলা, নেহাল, পাশা, হাবু, স্পর্শ ও জায়েফকে। তারা এবার ঈদে বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার বিলাসিতা ত্যাগ করে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে তারা সময় কাটায় এতিম শিশুদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ইফতার ও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য চিত্র।
নির্মাতা অমির মানবিক দর্শন নতুন এই কাজটি নিয়ে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি বলেন, “আমরা এই কনটেন্টে Fun-Comedy বা বিনোদনের মোড়কে একটি গভীর সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা একাকীত্বে (Loneliness) ভোগেন বা যাদের উৎসব ভাগ করে নেওয়ার মতো আপন কেউ নেই। আমরা যদি উৎসবের দিনগুলোতে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই, তবেই সেই উদযাপন সার্থক হয়। এই কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শকরা একে অপরকে সাহায্য করার জন্য নতুন অনুপ্রেরণা বা Inspiration পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
আবেগঘন সংলাপে দর্শকদের মন জয় দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকতে থাকতে মেসের ব্যাচেলরদের মধ্যে যে এক ধরনের Emotional Bonding বা আত্মার বন্ধন তৈরি হয়, তার নিপুণ চিত্রায়ন দেখা গেছে এই কনটেন্টে। বিশেষ করে পাশা ও হাবু চরিত্রের সংলাপগুলো দর্শকদের গভীরভাবে আপ্লুত করেছে। যখন পাশা বলেন, "আমাদের ফ্যামিলিতে হাবু আর আমি ছাড়া কেউ নাই। এতিম গো একাই ঈদ করতে হয়"—এই সরল অথচ যন্ত্রণাদায়ক স্বীকারোক্তি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দর্শকদের মতে, ১৪ মিনিটের এই ছোট কনটেন্টে যেমন বিনোদন ছিল, তেমনি ছিল জীবনমুখী শিক্ষা।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রশংসার জোয়ার ইউটিউবের ‘বুম ফিল্মস’ চ্যানেলে অবমুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছে পুরো টিম। জোবায়ের হোসেন নামে এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “ব্যাচেলররা যেভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটালো, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রমজান আমাদের ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ভোলার যে শিক্ষা দেয়, এই কনটেন্টটি তারই প্রতিফলন।” নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বাণিজ্যিক প্রচারণার আড়ালে এমন ইতিবাচক বার্তা প্রদান ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন ও উন্নত স্ট্যান্ডার্ড (Enterprise Standard) তৈরি করেছে।
পরিশেষে, ‘ব্যাচেলর রমজান ভাইব’ কেবল একটি ভিডিও নয়; এটি বিনোদন জগতের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সফল প্রয়াস। কাজল আরেফিন অমি আবারও প্রমাণ করলেন, সঠিক গল্প ও চরিত্রায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কনটেন্টকেও কালজয়ী ও শিক্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।