বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উত্তাল ও নাটকীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে সম্প্রতি। অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) ১৮ মাসের মেয়াদ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (BNP) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন দেশজুড়ে পুনর্গঠনের কাজ চলছে, ঠিক তখনই সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে একটি স্পর্শকাতর মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন প্রবীণ অভিনেতা ফখরুল বাশার মাসুম।
অতীত ও বর্তমানের সন্ধিক্ষণে স্মৃতিচারণ সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম (Social Media) প্রোফাইলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেছেন ফখরুল বাশার মাসুম। ছবিটি বেশ কয়েক বছর আগের, যখন ড. ইউনূস সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছ থেকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন। সেই সফরে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল মাসুম বাশারের। সেই দিনগুলোর স্মৃতি হাতড়েই এই অভিনেতা দাবি করেছেন, ড. ইউনূসের মতো একজন মানুষের বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়া ঠিক হয়নি।
‘উদ্ধারকর্তা যখন সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু’ কেন তিনি এমন মন্তব্য করলেন? এর ব্যাখ্যায় মাসুম বাশার আমাদের সমাজের একটি নেতিবাচক প্রবণতার দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখনই কোনো সংকটময় মুহূর্তে কেউ ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হন, শুরুতে মানুষ তাকে মাথায় তুলে নাচে। কিন্তু সেই সংকট (Crisis) কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
মাসুম বাশারের ভাষ্যমতে, “আমাদের দেশের ট্র্যাজেডি হলো, ক্রান্তিকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর যিনি ত্রাণকর্তা ছিলেন, তাকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের আসামি বানিয়ে দেওয়া হয়। ড. ইউনূসের মতো বিশ্বনন্দিত একজন নোবেলজয়ী (Nobel Laureate), যাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিপুল সম্মান দেওয়া হয়, তাকে এদেশের রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যে দেখাটা যন্ত্রণাদায়ক।” অভিনেতার মতে, ড. ইউনূসকে যে ধরনের সমালোচনার (Criticism) মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা তার প্রাপ্য ছিল না।
নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া মাসুম বাশারের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তার সহকর্মী শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেতার এই আক্ষেপের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বকে দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে রাখা উচিত ছিল। আবার অনেকে মনে করছেন, দেশের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়াটা তার নৈতিক কর্তব্য ছিল, ফল যাই হোক না কেন।
একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি? ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ক্রান্তিলগ্নে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেছে। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ড. ইউনূস তার দায়িত্ব শেষ করেছেন। তবে ফখরুল বাশার মাসুমের এই ‘আক্ষেপ’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো। পোস্টের শেষে মাসুম বাশার এই প্রবীণ অর্থনীতিবিদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।