রাজধানীর ফুসফুসখ্যাত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকসেবী ও কারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এক ঝটিকা অভিযান (Special Drive) পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে মাদকসহ অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক মাদকসেবী উদ্যানের ঝোপঝাড় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বড় একটি অংশকে জালে তুলতে সক্ষম হয় প্রশাসন।
অভিযানের নেপথ্যে ও প্রেক্ষাপট রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে মাদক কেনাবেচা এবং সেবনের একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছিল। সাধারণ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পুলিশ এই বিশেষ অভিযান শুরু করে।
জিরো টলারেন্স ও বর্তমান পরিস্থিতি অভিযান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডিসি মাসুদ আলম স্পষ্ট জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসনের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance Policy) বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা মূলত মাদক ব্যবসায়ী, এর বাহক এবং সেবনকারীদের টার্গেট করে এই অপারেশন পরিচালনা করছি।”
পুলিশের তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নারী সিন্ডিকেট ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, বর্তমানে মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে কৌশলী পথ বেছে নিচ্ছে। ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “অভিযানের সময় কিছু মধ্যবয়সী নারী অযথা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা মূলত মাদক সিন্ডিকেটের (Drug Syndicate) সদস্য হিসেবে কাজ করে থাকে।” তবে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের কোনো বাধাই পুলিশের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আইনি পদক্ষেপ আটককৃত ২০ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও আটক ব্যক্তিদের রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।